ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আজ থেকে পাকিস্তানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও দেশটির প্রধানমন্ত্রী, সংসদ স্পীকার, সেনা প্রধানসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন বলে কথা রয়েছে।
ইরানের ৩০ সদস্যের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের সঙ্গে রয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের অল্প কিছু পরেই তার পাকিস্তান সফর থেকে বোঝা যায়, দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ইসলামাবাদ ও নয়া দিল্লির মধ্যে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান। এ সফরকালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্ক অগ্রাধিকার পাবে।
সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ইরান তার আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বিস্তারে তেহরান আগ্রহী। গত নভেম্বরে পাকিস্তানের সেনা প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার তেহরান সফর এবং ডিসেম্বরে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফের তেহরান সফরেও সন্ত্রাস মোকাবেলার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।
ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ কারণে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে দু'দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বিস্তার খুবই জরুরি। আমেরিকাসহ কয়েকটি দেশের সহযোগিতায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির যে চেষ্টা করছে তা কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "এ ক্ষেত্রে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছ।" তিনি বলেন, "এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বিস্তারের মাধ্যমেই কেবল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।"
এ লক্ষ্যে আফগানিস্তানে বিরাজমান সমস্যার সমাধান করাও গুরুত্বপূর্ণ। এটাও ইরান ও পাকিস্তানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইরানে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও দেশটির সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রধান খালেদ মাহমুদ আফগান সংকট সমাধানে ইরান ও পাকিস্তানের ভূমিকার ব্যাপারে বলেছেন, এ বিষয়ে এ দুইদেশ অভিন্ন চিন্তাভাবনা পোষণ করে যা খুবই প্রশংসনীয়। গত নভেম্বর ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আফগানিস্তান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক বিষয়ক বিশ্লেষক সাআদুল্লাহ যারেয়ী মনে করেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরান ও পাকিস্তান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নয়া দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১