আজারবাইজানে ইরান বিরোধী প্রচারণা: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i59884-আজারবাইজানে_ইরান_বিরোধী_প্রচারণা_দ্বিপক্ষীয়_সম্পর্ক_ক্ষতিগ্রস্ত_করার_চেষ্টা
ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে আর্থ-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের জন্য যখন ব্যাপক চেষ্টা চলছে তখন আজারবাইজানের কয়েকটি গণমাধ্যম ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
জুলাই ০৭, ২০১৮ ১৪:০২ Asia/Dhaka

ইরান ও আজারবাইজানের মধ্যে আর্থ-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের জন্য যখন ব্যাপক চেষ্টা চলছে তখন আজারবাইজানের কয়েকটি গণমাধ্যম ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার শুরু করেছে।

আজারবাইজানের সরকারি বার্তা সংস্থা 'অযার তাজ' দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, গাঞ্জে শহরের গভর্নর আলমার ওয়ালিয়েভের ওপর সাম্প্রতিক সশস্ত্র হামলার ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত এবং এটা সন্ত্রাসী হামলা। 'অযার তাজ' আরো দাবি করেছে, হামলায় জড়িত ইউনুস সাফারোভ গত ২০১৬ সালে ইরানে গিয়েছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অতীতের মতই এলহাম আলিয়েভের সরকারের অনুগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমগুলো কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। অথচ প্রতিবেশী একটি দেশে কেবল সফর কিংবা পড়াশোনা করতে যাওয়ার অর্থ এ নয় যে সে কোনো খুনের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত। তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগের অর্থ হচ্ছে আজারবাইজানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে ধামাচাপা দেয়া। এর আগেও আজারবাইজান সরকার নিজের অশুভ রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্য ধর্মের অপব্যবহারের নজির রয়েছে।

আজারবাইজানের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হাজ ইলকার ইব্রাহিম ওগ্লু বলেছেন, গাঞ্জে শহরের গভর্ণর হত্যার জন্য ধর্মকে দায়ী করা ঠিক নয়। তিনি বলেছেন, "গাঞ্জে শহরের গভর্ণর ছিলেন অত্যাচারী এবং সেখানকার শ্রমিক, ধার্মীক কিংবা অধার্মীক এবং চিন্তাবিদরা নির্যাতিত ছিল। এ কারণে যেকোনো ব্যক্তি সে ধার্মীক কিংবা অধার্মীক হোক না কেন সুযোগ পেলে জুলুমের অবসান ঘটাতে সে পদক্ষেপ নেবে।"

আজারবাইজানের গাঞ্জ শহরের গভর্ণর হত্যায় এমন সময় তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হল যখন গত কয়েক বছরে দুই দেশের নেতারা অর্থনৈতিক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বড় বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তেহরান-বাকু-মস্কোর মধ্যে বিশাল রেল লাইন প্রকল্প নির্মাণের কথা উল্লেখ করা যায়। এ ছাড়া, সম্প্রতি বাকু ও তেহরানে দু'দেশের মধ্যে 'সাংস্কৃতিক সপ্তাহ' উদযাপতি হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইরানের বেশ ক'জন কর্মকর্তা সেদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গাঞ্জে সফর করেছেন। এসব সফর ও অনুষ্ঠান থেকে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ দু'টি মুসলিম দেশের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায়।

যাইহোক, ধারণা করা হচ্ছে, ইরান ও আজারবাইজানের সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য শত্রুরা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে এবং নানা মিথ্যা কথা সাজিয়ে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় শত্রুর লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭