মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় ইইউ’র পদক্ষেপ কতটা কার্যকর?
ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার লক্ষ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে। ইউরোপীয় কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আজ (৭ আগস্ট) থেকে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে দায়মুক্তি দেয়ার আইন বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ মে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যান এবং ঘোষণা করেন, সমঝোতা পূর্ববর্তী সব নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর পুনর্বহাল করা হবে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রথম ধাপ আজ থেকে শুরু হয়েছে এবং বাকি নিষেধাজ্ঞাগুলো আগামী ৪ নভেম্বর কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা একক কোনো দেশের হাতে ন্যস্ত করা হয়নি যে, সে যখন খুশি তা বাতিল করে দেবে। এই সমঝোতা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হওয়ায় তা আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়েছে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং ইউরোপসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এ সমঝোতাকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
মোগেরিনির ভাষ্য অনুযায়ী এ সমঝোতাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইইউ সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করেছে। এ আইন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা বা ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়ে সে ব্যবস্থা নেবে ইইউ।
ওদিকে মার্কিন সরকার দাবি করেছে, পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য ইইউ যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে ওয়াশিংটন উদ্বিগ্ন নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত আমেরিকার এ ধরনের বলদর্পী বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ পর্যন্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে ইউরোপকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক যুদ্ধ শুরু করা, ন্যাটো জোটে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, ইউরোপের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফা বেরিয়ে যাওয়া।
পর্যবেক্ষকরা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলছেন, পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে বল এখন ইউরোপের কোর্টে। ইউরোপ যদি সত্যিই পরমাণু সমঝোতাকে জরুরি মনে করে তবে তাকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউরোপকে আমেরিকার মোকাবিলায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে বুঝিয়ে দিতে হবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মহাদেশের স্বাধীনভাবে কিছু করার ক্ষমতা রয়েছে; তারা আমেরিকার হাতে পুরোপুরি নজরবন্দি হয়ে পড়েনি।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৭