ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে ভাবলে ট্রাম্প মারাত্মক ভুল করবেন: আইআরজিসি প্রধান
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি'র প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ আলী জাফারি বলেছেন, "মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ভেবে থাকেন তিনি ক্ষমতায় আসার পর ইরানের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে তাহলে তিনি মারাত্মক ভুল করবেন।
তিনি আরো বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটি দাবি করেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসার আগে ইরান ১২ মিনিটের মধ্যে শত্রুর হামলার জবাব দিতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইরান এখন আরো কম সময়ের মধ্যে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অতীত সরকারগুলোর মতোই ইরান বিরোধী নীতি অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু ইরানের শক্তি-সামর্থ্য ও দেশটির বাস্তবতার ব্যাপারে ট্রাম্পের চিন্তাভাবনাগুলো অতীত সরকারগুলোর মতো নয় এবং তিনি ভুলের মধ্যে ডুবে আছেন। তিনি নানা উপায়ে ইরানের বিরুদ্ধে তার পদক্ষেপগুলোকে সফল বলে প্রচার চালাচ্ছেন। ইরানের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা টুইট বার্তা ও পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় ইরানের শক্তি ও বাস্তবতা উপলব্ধি করতে তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি নিকি হ্যালির পদত্যাগ পত্র গ্রহণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেছেন, "ইরান এমন এক অবস্থানে এসে পৌঁছেছে যে তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময়ই ইরান সম্পর্কিত কথাবার্তায় 'আত্মসমর্পণ', 'আচরণে পরিবর্তন' কিংবা 'শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন' এ জাতীয় শব্দাবলী ব্যবহার করে থাকেন। ইরান বিদ্বেষের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যান এবং এরপর সৌদি আরব ও দখলদার ইসরাইলের সহযোগিতায় ইরান বিরোধী জোট গঠনের চেষ্টা করেন। ইরানের প্রতি বিদ্বেষ ও ইরানভীতি ছড়ানো আমেরিকার সব সরকারেরই অভিন্ন নীতি ছিল কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এ বিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সব সংকটের জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও প্রচারণা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইসলামি ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। কিন্তু তাদের এ স্বপ্ন কখনই পূরণ হবে না। এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি বলেছেন, "ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ের সময়, সাদ্দামের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে এবং গত ৪০ বছরে আরো অন্যান্য ঘটনাবলী প্রমাণ করে আমেরিকা ইরানের কাছে পরাজিত হয়েছে।"
ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে সবসময়ই দেশটি নানা ষড়যন্ত্র ও হুমকি মোকাবেলা করে আসছে। কিন্তু এখন আর্থ-রাজনৈতিক, সামরিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইরান বিরাট শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অব্যাহত প্রতিরোধ ইরানের ইসলামি বিপ্লব টিকে থাকার প্রধান রহস্য। গত ৪০ বছরে এটা প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান বিরোধী নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, "ট্রাম্প হয়তো এটা জানেন না যে ইরান একটি সমৃদ্ধ 'প্রতিরোধ সংস্কৃতি'র দেশ এবং কোনো হুমকির কাছে দেশটি মাথা নত করবে না।"
যাইহোক, ইরান তার লক্ষ্যে অটল রয়েছে এবং আমেরিকাসহ যেকোনো দেশের চাপ উপেক্ষা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে যতই ঠাট্টা বিদ্রূপ করুন না কেন বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা এখন পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান দিনকে দিন শক্তিশালী হচ্ছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন