ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i65711-ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_দৃষ্টিতে_সন্ত্রাসবাদ_বিষয়ে_আমেরিকার_দ্বিমুখী_নীতি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশ এ ঘটনার জন্য মুসলমানদেরকে দায়ী করে আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নায়ক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু এরপর আমেরিকার নানা কর্মকাণ্ডের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে যুদ্ধ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
নভেম্বর ১০, ২০১৮ ১৬:২৩ Asia/Dhaka

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লুউ বুশ এ ঘটনার জন্য মুসলমানদেরকে দায়ী করে আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নায়ক হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু এরপর আমেরিকার নানা কর্মকাণ্ডের ফলে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে যুদ্ধ ও উগ্র সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধের নামে আমেরিকা যে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে তার ফলে শুধু যে আমেরিকার জনগণের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তাই নয় একই সঙ্গে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনে ব্যাপক ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার প্রাণহানী ও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে পেনসিলভানিয়ায় অবস্থিত জন ওয়াটসন ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, এ যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে কেবল আল কায়দা ও দায়েশের মতো সন্ত্রাসীদের উদ্ভব ঘটেছে।

বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন এবং উগ্রপন্থা বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দুটি বিপজ্জনক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে গড়ে তুলেছে এবং এদের মাধ্যমে আমেরিকা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমেরিকার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইরানের ভাবমার্যাদ ক্ষুন্ন করা। তবে ইরান সরাসরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে দায়েশকে প্রায় নির্মূল করে দিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দাবি করছে তার ফলে কেবল নিরীহ মানুষ নিহত হওয়া ছাড়া আর কোনো ফল বয়ে আনেনি।

ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীরা যে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তা কিন্তু দায়েশের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধের কারণে নয় বরং ইরান ও তার মিত্রদের প্রতিরোধের কারণেই দায়েশ সন্ত্রাসীরা পরাজয় বরণ করেছে। ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আমেরিকার ওয়াটসন ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমেরিকার কথিত যুদ্ধ শুরুর পর ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে অন্তত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি সম্পর্কে খ্যাতনামা মার্কিন চিন্তাবিদ নওম চমস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, সত্যিই যদি আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের অবসান চায় তাহলে কেন সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে? তার মতে এই প্রশ্নের জবাব অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনকে ধ্বংস করে দিয়েছে আমেরিকা এবং একই সঙ্গে আল কায়দা ও দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছে তারা। #         

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০