ইরানের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাবই ইয়েমেন সংকটের একমাত্র পথ: জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তার দেশের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাব ইয়েমেন সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়। সৌদি আরব, আমেরিকা ও তাদের মিত্ররা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপনের পর জাওয়াদ জারিফ এ কথা বলেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধের জন্য ইরানের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি সবারই জানা আছে। এ ব্যাপারে দেশটির কর্মকর্তারা জাতিসংঘ ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক করেছেন। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন শুরুর পরপরই ২০১৫ সালের এপ্রিলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে লেখা চিঠিতে সৌদি আগ্রাসনের পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি বিদ্বেষের অবসান, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সাহায্য প্রেরণ এবং বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরু ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন।
জাওয়াদ জারিফ সম্প্রতি স্পেন সফরে গিয়ে তেহরানের চার দফা প্রস্তাবের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইয়েমেন সংকট সমাধানের জন্য আবারো ওই দেশটির সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদেশিদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই কেবল ইয়েমেনিদের মাধ্যমেই সংকট নিরসন হওয়া উচিত এবং অবিলম্বে স্থল ও আকাশ পথে সৌদি আগ্রাসন বন্ধ হওয়া দরকার।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ হাদি আফ্ফাহি রুশ বার্তা সংস্থা স্পুতনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইয়েমেন সংকট নিরসনে যে কয়েকটি দেশ জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান তার মধ্যে অন্যতম। এমনকি ইয়েমেন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতেও ইরান প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার সত্বেও জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান যে চেষ্টা চালাচ্ছে তাতে সংকট নিরসনের জন্য তেহরানের আন্তরিক ও ইতিবাচক ভূমিকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গত চার বছর ধরে ইয়েমেনে ভয়াবহ হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইউনিসেফের প্রধান গ্রেট কপলার বলেছেন, ইয়েমেন যুদ্ধে এক কোটি দশ লাখ ছেলেমেয়ের জীবন আজ বিপন্ন এবং এটি বিশ্বের অন্যতম মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন শুরুর পরপরই রাজনৈতিক উপায়ে সংকট নিরসনের জন্য ইরান ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু সৌদি বাধার কারণে এখন পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি এই সংস্থার মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা আলাদা চিঠিতে বলেছেন, সৌদি আরব ইরানের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্য নানান ষড়যন্ত্র আঁটছে। তিনি ইয়েমেনে সৌদি অপরাধযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে আরো বলেছেন, আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত যুদ্ধ বন্ধের জন্য সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন