এসপিভি চালুর ইউরোপীয় প্রতিশ্রুতির মধ্যেই ইরানের হুঁশিয়ারি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালু করতে আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা (এসপিভি) চালু হবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ আবারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গতকাল বুধবার ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি’র মুখপাত্র এই প্রতিশ্রুতি দেন।সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিশেষ চ্যানেল চূড়ান্ত করেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন না করলে ইরানও এটি মেনে চলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
প্রায় নয় মাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি থেকে তার দেশকে বের করে নেন। এরপর আমেরিকাকে ছাড়াই এই সমঝোতা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইরানকে আর্থিকভাবে লাভবান করার চেষ্টা চালানোর কথা বলে আসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলোই এ সমঝোতায় টিকে থাকার জন্য ইরানকে অনুরোধ জানিয়েছিল।
সে সময় তেহরান বলেছিল, ইউরোপ যদি পরমাণু সমঝোতা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে তাহলেই কেবল ইরান এ সমঝোতায় টিকে থাকবে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের সে শর্ত মেনে নেয় এবং তখন থেকে ইইউ’র পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে ইরান। কিন্তু ইউরোপীয়দের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো লক্ষন চোখে পড়ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া এবং ইউরোপীয়দের এই গড়িমসি থেকে প্রমাণিত হয়, ইরানকে নিজের সমস্যা সমাধানের জন্য অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার দিকে নজর দিতে হবে। বাইরের কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না।
সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে চলতে হলে সেজন্য মূল্য দিতে হয় এবং ইরান গত ৪০ বছর ধরে সে মূল্য দিয়ে এসেছে। আমেরিকার রাজনৈতিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ইরানি জনগণ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্বাধীনচেতা নীতি গ্রহণ করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রভাবশালী ও নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা প্রতিহত করার জন্য ইরানের হাতে অনেকগুলো কৌশল রয়েছে। চীন ও রাশিয়াসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা শক্তিশালী করাসহ অন্যান্য কৌশল অবলম্বন করে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৩১