চিকিৎসা ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান
-
জাওয়াদ জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানানোর জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলেছেন, "মার্কিন সরকার সব সময় মিথ্যা বলছে। তারা দাবি করছে ইরানি জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা নেই, তাদের সমস্যা হলো ইরানের সরকারের সঙ্গে। তাদের এই দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। ইরানি জনগণের জন্য একটি ওষুধের প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রেও তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।" প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, "মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের জনগণের সাথে যে আচরণ করছে তা মানবতা বিরোধী অপরাধকেও ছাড়িয়ে গেছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানের সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে মার্কিন শত্রুতা ও বিদ্বেষী আচরণ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং ইরানের জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাপনকেও বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা সরাসরি জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং এটা ইরানি জাতির বিরুদ্ধে মার্কিন শত্রুতার নিদর্শন। আর পরমাণু সমঝোতা অজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা স্বাভাবিকভাবেই ইরানের জনগণের চিকিৎসা পরিসেবার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব দেশেরই চিকিৎসা সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কাউকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। মার্কিন কর্মকর্তারা যদিও দাবি করেছেন, ইরানের ওষুধ ও চিকিৎসার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্য ও ওষুধ কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক অধিকার বিষয়ক কেন্দ্রের প্রধান মোহসেন মোহাব্বি বলেছেন, "ইরানের খাদ্য ও ওষুধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি বলে আমেরিকা দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ইরানে খাদ্য ও ওষুধ আমদানিতে কোনো সহযোগিতা করছে না এবং এ ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।"
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরাসরি ইরানের জনগণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তারা যা করছে তা ইরানের জনগণে সঙ্গে প্রকাশ্য শত্রুতা। বিষয়টি কেবল ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেই সম্পর্কিত নয় বরং গত ৪০ বছর ধরে আমেরিকার সব সরকারই ইরানের জনগণের সঙ্গে শত্রুতা করে আসছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৮