ইরানের ওপর কঠোরতম মার্কিন চাপও বুমেরাং হওয়ার রহস্য!
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i69308-ইরানের_ওপর_কঠোরতম_মার্কিন_চাপও_বুমেরাং_হওয়ার_রহস্য!
ইরান যখন ৪০ তম ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে তখনও ইসলামী এই দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের হুমকি ও তর্জন-গর্জন অব্যাহত রয়েছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:21+00:00 )
এপ্রিল ০২, ২০১৯ ১৪:৩২ Asia/Dhaka
  • মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা  জন বোল্টন (ফাইল ছবি)
    মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন (ফাইল ছবি)

ইরান যখন ৪০ তম ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে তখনও ইসলামী এই দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের হুমকি ও তর্জন-গর্জন অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের ইসলামী সরকারকে ৪০ বছর পূর্তির আগেই উৎখাত করার ডন-কুইক্সোটীয় আশা ব্যক্ত করেছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের নির্বুদ্ধিতামূলক ওই ঘোষণাকে উপহাস করে কোটি কোটি ইরানি জনতা গত ১১ ফেব্রুয়ারি পালন করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের ঐতিহাসিক ৪০তম বিজয়-বার্ষিকী।

এরপরও ইরানের ইসলামী সরকারকে দুর্বল করার আশা ছাড়তে পারছে না মার্কিন সরকার। আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাম্প সরকার প্রায়ই ইরানের ওপর আরোপ করছে নতুন নতুন নানা নিষেধাজ্ঞা। ইরানের জনগণকে কতভাবে নানা অজুহাতে কত বেশি কষ্ট দেয়া যায় সে চিন্তায় যেন জুলুমবাজ মার্কিন সরকারের প্রধান কর্মকর্তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

গতকাল (সোমবার) মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোটা গোঁপওয়ালা যুদ্ধবাজ জন বোল্টন স্বভাবসুলভ চোখ-রাঙ্গানো হুমকি দিয়ে টুইট বার্তায় লিখেছেন, তেহরানের 'অগ্রহণযোগ্য' আচরণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ চাপ-প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে!

যুদ্ধবাজ বোল্টন আরও দাবি করেছেন, ইরান তার আশপাশের নানা অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। আসলে ইরান-অতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে মার্কিন সরকার ইরাক ও সিরিয়ায় তার সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখতে চায় এবং এ অঞ্চলে অস্ত্র-বিক্রি বহুগুণ বাড়াতে চায়।

ইরানে যখন ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে এবং বিশ্ববাসীর মন যখন বন্যাদুর্গতদের জন্য সহানুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে আছে সে সময়ও মার্কিন সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের মুখ থেকে ইরানের দিকে ছড়ানো হচ্ছে বিষাক্ত বাক্য! 

গত বছরের ৮ মে ট্রাম্প একতরফাভাবে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতাটি বাতিল করেন এবং এরপর গত আগস্ট ও নভেম্বর মাসে তেহরানের ওপর নতুন কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এসব নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনগণ। ইরানের ওষুধ ও খাদ্যসহ জরুরি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত। কিন্তু মার্কিন সরকার এখনও ওই নির্দেশে কান দেয়নি।

অথচ ট্রাম্প সম্প্রতি নতুন ফার্সি বছরের শুরুতে নওরোজ উৎসব উপলক্ষে ইরানি জনগণকে ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যে বলেছেন, ইরানি জাতির জন্য তার নাকি রয়েছে মমত্ববোধ! মজার ব্যাপার হল এর আগে তিনি নিজেই বলেছেন, ইরানের ওপর এত ব্যাপক ও কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি যে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনী এর জবাবে বলেছেন, ইরানি জনগণ এই নিষেধাজ্ঞা এমনভাবে ব্যর্থ করবে যে তাও হবে ইতিহাসে মার্কিন সরকারের নজিরবিহীন ব্যর্থতা। 

মার্কিন সরকারের অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের মুখে ইরানের সরকার ও জনগণ নতজানু হবে না বলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফও উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন সরকারের একতরফা ও অন্যায্য ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সংস্থা বন্যার্তদের জন্য বিদেশী অর্থ সাহায্য দেশে আনতে পারছে না বলে এ সংস্থাটির প্রধান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের প্রচার-যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের যেসব লক্ষ্য সেসব কখনও ওয়াশিংটন অর্জন করতে পারবে না। কারণ, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ইরানি জাতির ওপর যত বেশি বাইরের চাপ দেয়া হয় ততই তারা বেশি ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তারা নিষেধাজ্ঞাগুলোকে স্বনির্ভরতা অর্জনের সফল সুযোগে পরিণত করে। বিগত চল্লিশ বছরের ইতিহাসই এর জ্বলন্ত সাক্ষ্য। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০২