আইআরজিসি না থাকলে দায়েশ সন্ত্রাসীরা ইউরোপের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেত: জারিফ
-
মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি যদি ইরাক ও সিরিয়ার সাহসী জনতার পাশে না দাঁড়াত এবং আত্মোৎসর্গ না করত তাহলে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ ওই দেশ দু'টির রাজধানী দখল করে নিত এবং তারা ইউরোপের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইট বার্তায় ২০১৬ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কের ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছেন যাতে দেখা যায় ট্রাম্প সেসময় স্বীকার করেন সিরিয়ায় দায়েশকে নির্মূলের পথে রয়েছে ইরান।
যাইহোক, ইরাক ও সিরিয়া সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে আইআরজিসি এগিয়ে আসায় দায়েশ সন্ত্রাসী ও তাদের সমর্থকদের খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। আইআরজিসির প্রতিরোধের সংস্কৃতি ইরাক ও সিরিয়ার জনগণের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং দু'দেশের স্বেচ্ছাসেবী জনগণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৮০টি দেশ থেকে সন্ত্রাসীদেরকে ভাড়া করে এনে ইরাক ও সিরিয়ায় পাঠানো হয়েছিল যার মধ্যে ইউরোপ থেকে আসা সন্ত্রাসীরাও ছিল। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত এসব সন্ত্রাসীরা এমনকি ইউরোপের ঘুমও কেড়ে নিয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী যখন ইরাক ও সিরিয়া থেকে দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয় তখন ইউরোপ স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলে। ইরানের এ ভূমিকার কারণে দায়েশ শেষ পর্যন্ত ইউরোপের দোড়গোড়ায় পৌঁছাতে পারেনি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন যা খুবই ন্যক্কারজনক।
বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের গড়ে তুলেছে। কিন্তু ইরানের আইআরজিসির কাছে সন্ত্রাসীরা পরাজিত হয়েছে।
চীনের দৈনিক গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, "পশ্চিম এশিয়া আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে এবং দেশটি নিজের শক্তিমত্বা প্রদর্শনে জন্য ভুল জায়গা বেঁছে নিয়েছে।" দৈনিকটি আরো লিখেছে, "সন্ত্রাসবাদের অপব্যবহার করে আমেরিকা শত্রু দেশগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাবলীর দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, আমেরিকা এ অঞ্চলে কোন লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি এবং এ কারণে দেশটি এ অঞ্চলকে আরো বেশি সংকটের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমেরিকার এ নীতি সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দায়েশ যখন ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছিল তখন ইউরোপের দেশগুলোও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এ কারণে ইউরোপ আজ ইরানের কাছে ঋণী। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১১