ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তব নাকি দিবাস্বপ্ন?
-
ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান নমদার জাঙ্গানেহ
ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান নমদার জাঙ্গানেহ বলেছেন, আমেরিকা এবং প্রতিবেশী দুটি আরব দেশ ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার যে ঘোষণা দিয়েছে তা কোনোভাবেই বাস্তবায়নযোগ্য নয় এবং ইরানি তেলের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি তেহরানে তেল, গ্যাস, শোধনাগার ও পেট্রোকেমিকেল বিষয়ক ২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন। ইরানের তেলমন্ত্রী বলেন, বিশেষজ্ঞদের জানা আছে প্রতিবেশী দু'টি আরব দেশ ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণের জন্য তাদের পর্যাপ্ত তেলের মজুদ আছে বলে যে দাবি করছে তা অতিরঞ্জিত ও লোক দেখানো এবং তারা ইরানের তেলের ঘাটতি কখনোই পূরণ করতে পারবে না।
মার্কিন সরকার গত ২২ এপ্রিল ঘোষণা করে আর কোনো দেশকে ইরান থেকে তেল কেনার অনুমতি দেয়া হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বে ইরানী তেলের ঘাটতি পূরণ করবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হোয়াইট হাউজের বর্তমান কর্তাব্যক্তিরা ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার মাধ্যমে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছেন। এ কারণে ইরানের বৃহৎ তেল ক্রেতাদের ওপর থেকে সাময়িকভাবে তুলে নেয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো বাড়ানো হবে না বলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন সরকার অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ যে কোনো উপায়ে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আমেরিকাকে সহযোগিতা করছে।
ইরানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী মোহসেন মোহাব্বি বলেছেন, একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে আমেরিকা এমনভাবে বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যাতে কেবল মার্কিন স্বার্থ রক্ষিত হয় যা আইনের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকার ইরান নীতির ফলে বিশ্বে জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে এবং সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মার্কিন স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে সবারই উচিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তবে বহু দেশ ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
একদিকে যেমন মার্কিন স্বেচ্ছাচারী নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে অন্যদিকে ইরানি তেলের গুণগত কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বে এই তেলের কোনো বিকল্প নেই। এ অবস্থায় আমেরিকা ভাল করেই জানে বিশ্বে ইরানি তেলের অভাব পূরণ করা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে সম্ভব নয় কিন্তু তারপরও তারা ওই অভাব পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যা কেবলই মনস্তাত্বিক প্রচারণা মাত্র।
ইরানি তেল হাল্কা মানের হওয়ায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষে অন্য কোনো দেশকে এই তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। কারণ ইরানি তেলের ওপর নির্ভর করে বিশ্বের বহু দেশের তেল শোধনাগার গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি বিষয়ক একটি সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে ইরানি তেলের কোনো বিকল্প নেই। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২