আলী খামেনেয়ীর শাহাদাতের ৪০ দিন: ‘হায়দার’ ধ্বনিতে কাঁপল তেহরানের আকাশ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i158338-আলী_খামেনেয়ীর_শাহাদাতের_৪০_দিন_হায়দার’_ধ্বনিতে_কাঁপল_তেহরানের_আকাশ
ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং মিনাবের শতাধিক স্কুল-শিক্ষার্থীর শাহাদাতের ৪০তম দিনে যেন কান্নার স্রোত আর প্রতিরোধের আগুনে ভেসে গেল তেহরান। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে রাজধানীবাসী শুধু শোকাহতই হননি, বরং বুক চিতিয়ে জানান দিয়েছেন- শহীদের রক্ত কখনও ব্যর্থ হয় না।
(last modified 2026-04-09T15:13:27+00:00 )
এপ্রিল ০৯, ২০২৬ ২০:১৯ Asia/Dhaka
  • জনসমুদ্রে তেহরান
    জনসমুদ্রে তেহরান

ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং মিনাবের শতাধিক স্কুল-শিক্ষার্থীর শাহাদাতের ৪০তম দিনে যেন কান্নার স্রোত আর প্রতিরোধের আগুনে ভেসে গেল তেহরান। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে রাজধানীবাসী শুধু শোকাহতই হননি, বরং বুক চিতিয়ে জানান দিয়েছেন- শহীদের রক্ত কখনও ব্যর্থ হয় না।

সকাল থেকেই তেহরানের জমহুরি ইসলামি স্কয়ার থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীর শাহাদাতের স্থান পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নেমে আসে। চোখে পানি, গলায় রুদ্ধস্বরে ‘হায়দার, হায়দার’, ‘আমেরিকা ধ্বংস হোক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগানে ফেটে পড়ে অলিগলি। ইনকেলাব চত্বর, ওয়ালিআসর মোড়, আজাদি সড়ক, ইমাম হুসাইন চত্বর—সবকিছু যেন এক মাতমের কারবালায় পরিণত হয়।

শুধু শোক নয়, ফুঁসে ওঠা জাতি

বৃদ্ধ-যুবক, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আসেন শোক সমাবেশে। কপালে ‘ইয়া হুসাইন’, পট্টি বাঁধা যুবকরা মুষ্টিবদ্ধ হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এই মিছিলে শুধু মাতম ছিল না, ছিল প্রতিশোধের আগুন। প্রতি মুহূর্তে বাজছে স্লোগান: “হুসাইন হুসাইন আমাদের স্লোগান, শাহাদাত আমাদের গর্ব”

তেহরানের রাস্তা আজ প্রমাণ করল, অশ্রু যখন ক্রোধ ও অহমিকার সঙ্গে মেশে, তখন তা স্লোগানে রূপ নেয়—যা দেয়ালও কাঁপায়।

শুধু নেতা নন, মিনাবের শিশুরাও শহীদ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনেই শাহাদাতবরণ করেন নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ও তাঁর পরিবারের কয়েক সদস্য। শহীদ হন দেশের শীর্ষ কমান্ডাররা—মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি, রিয়ার অ্যাডমিরাল আলি শামখানি, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর।

তবে সবচেয়ে নৃশংস হামলা হয় মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সেটিকে লক্ষ্য করে, যেখানে ১৭০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক—যাদের অধিকাংশই শিশু—শহীদ হয়। সেই বেদনাও আজকের এই চল্লিশায় ঝড় তুলেছে।

ইরানের পাল্টা জবাব ও যুদ্ধবিরতি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আকস্মিক এই হামলার দ্রুত জবাব দেয়। ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল ও আঞ্চলিক দেশে মার্কিন সম্পদে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। টানা ১০০ দফা পাল্টা হামলার পর বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০-দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়।

পার্সটুডে/এমএআর/৯