শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকোবেলায় রুখে দাঁড়িয়েছি: ইরানের সেনাবাহিনী
-
ইরানের সেনাবাহিনী
পার্সটুডে-ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি (রহ.) এবং ১৫ খোরদাদের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে,শত্রুদের মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানিয়েছে, ফার্সি ১৪ ও ১৫ খোরদদ (৪,৫ জুন) গণঅভ্যুত্থান বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের সেনাবাহিনী একটি বিবৃতি দিয়েছে। ওই বিবৃতিতে মরহুম ইমাম খোমেনি (রহ.), ১৫ খোরদদের গণঅভ্যুত্থান এবং ইসলামী বিপ্লবের সংগ্রামী ও শহীদ নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেনাবাহিনী ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৪ ও ১৫ খোরদদ সমসাময়িক ইরানের ইতিহাসের দুটি অবিস্মরণীয় ও ভাগ্যনির্ধারক ঘটনার স্মারক। একদিকে, ১৪ খোরদাদ ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর ইন্তেকালের বার্ষিকী, যিনি ইসলামী বিপ্লবের স্থপতি, প্রতিষ্ঠাতা এবং ইরানি জাতির ধর্মীয় পরিচয় ও স্বাধীনতার চেতনার পুনর্জাগরণকারী। অন্যদিকে, ১৫ খোরদদ সেই মহান আন্দোলনের সূচনা দিবস, যেদিন ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বছর এই ঐতিহাসিক দিবসগুলোর বার্ষিকী এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানের মহান জাতি ইসলামী বিপ্লবের প্রজ্ঞাবান ও সংগ্রামী নেতা, আয়াতুল্লাহিল-উজমা ইমাম খামেনেয়ীর শাহাদাতের শোকে মুহ্যমান। ইমাম খোমেনির আদর্শ, জাতীয় মর্যাদা, দেশের স্বাধীনতা এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার পথে তিনি নিরলস সংগ্রামের মাধ্যমে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। অবশেষে তিনি সেই মহান আদর্শ বাস্তবায়নের পথেই শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বিপ্লবের মহান নেতার রাজনৈতিক ও চিন্তাগত দর্শন এবং শহীদ নেতার মূল্যবান উত্তরাধিকারের মধ্যে যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীনচেতা ও প্রতিরোধী ইরানি জাতির জন্য এক স্থায়ী পুঁজি ও পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গত চার দশকের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে যে, ইরানি জাতি বিপ্লবের দুই নেতার শিক্ষা, ঈমান, দূরদর্শিতা, ঐক্য এবং প্রতিরোধের চেতনার মাধ্যমে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা, আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকেছে এবং নিজেদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অত্যাচারের কাছে নতিস্বীকার না করার যে চেতনা ইরানি জাতির অন্যতম প্রধান শক্তি, তা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। সাহসী জনগণ, আত্মত্যাগী সশস্ত্র বাহিনী এবং গৌরবময় সেনাবাহিনী আজও একই প্রতিরোধ, সচেতনতা ও জাতীয়-ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্য নিয়ে দেশের সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর নেতৃত্বে শত্রু ও তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবিচল রয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী আবারও জাতীয় ঐক্য সংরক্ষণ, দেশের শক্তি বৃদ্ধি এবং শিশু হত্যাকারী শত্রুদের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে তারা ইরানি জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিপ্লবের দুই নেতার আদর্শ রক্ষায় তারা কখনোই শৈথিল্য দেখাবে না এবং যে-কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে।#
পার্সটুডে/এনএম/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।