মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে অস্ত্র মাফিয়ার আধিপত্য সম্পর্কে জারিফের বক্তব্য
-
মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে অস্ত্র মাফিয়ার আধিপত্যের কথা উল্লেখ করে এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাক্ষাতকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত আমেরিকার 'সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স'কে ঘৃণার চোখে দেখা যারা সবসময়ই এ দেশটিকে যুদ্ধের ময়দানে টেনে নিয়ে গেছে। ট্রাম্প নিজেও তার ওই সাক্ষাতকারে আমেরিকার যুদ্ধকামী নীতির পেছনে অস্ত্র নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোর ভূমিকা থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে সেনাবাহিনীর অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকে এবং এসব অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেনাবাহিনীর অস্ত্রের যোগান দেয়। কিন্তু এসব অস্ত্র নির্মাণকারী কোম্পানির মালিকরা ভিত্তিহীন হুমকি কিংবা ছোটখাটো নিরাপত্তা হুমকিকে বড় করে তুলে ধরে দেশের পররাষ্ট্র নীতিকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার পাশাপাশি সামরিক খাতে বিশাল অংকের বাজেট আদায়ের চেষ্টা চালায়। বর্তমানে আমেরিকায় ঠিক এ অবস্থা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্পের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন যেখানে তিনি বলেছিলেন, নির্বাচনে জিততে পারলে যারা পর্দার অন্তরালে থেকে গোপনে মার্কিন সরকারকে পরিচালনা করছে তাদের কবল থেকে ওয়াশিংটনকে বের করে নিয়ে আসবেন। জারিফ তার টুইটার বার্তায় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন পর্দার অন্তরালে থাকা মাফিয়া চক্রের হাত থেকে দেশকে উদ্ধারের সময় কি এখনো আসেনি?
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফের মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, আমিরাতের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন যায়েদ এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে নিয়ে বি-টিম গঠিত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মার্কিন সরকার নিজের আধিপত্য বিস্তার ও স্বেচ্ছাচারী লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা ছলচাতুরী, যুদ্ধ, অভ্যুত্থান, নিষেধাজ্ঞা ও হুমকিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। আর এ ক্ষেত্রে অস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বড় ভূমিকা রাখে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার টুইট বার্তায় বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বি-টিমের উস্কানিতে এমন কিছু অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন যা এর আগে কোনো আগ্রাসীই অর্জন করতে পারে নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলেকজান্ডার ও চেঙ্গিস খানসহ অন্য আগ্রাসীরা যেমন ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি, ঠিক তেমনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কিছুই করতে পারবে না। তিনি বলেন, ইরান হাজার হাজার বছর ধরে টিকে আছে, কিন্তু আগ্রাসীরা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রশাসনের একটি মহল ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সমর্থক বলে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। এক বছর আগেও পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেন। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১