ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক: আমেরিকার নোংরা খেলায় শামিল হল ব্রিটেন
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i71733-ইরানের_তেলবাহী_জাহাজ_আটক_আমেরিকার_নোংরা_খেলায়_শামিল_হল_ব্রিটেন
জিব্রাল্টার প্রণালীতে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটক করে। তারা দাবি করে জাহাজটি সিরিয়ার দিকে যাওয়ার কারণেই আটক করা হয়েছে। ব্রিটিশ সূত্র জানিয়েছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজ ২০১১ সালে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত ইউরোপীয় ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই দেশটির দিকে যাওয়ার সময় আটক করা হয়।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
জুলাই ০৫, ২০১৯ ১২:২৫ Asia/Dhaka
  • ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটক
    ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটক

জিব্রাল্টার প্রণালীতে ব্রিটিশ মেরিন সেনারা ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটক করে। তারা দাবি করে জাহাজটি সিরিয়ার দিকে যাওয়ার কারণেই আটক করা হয়েছে। ব্রিটিশ সূত্র জানিয়েছে, ইরানি তেলবাহী জাহাজ ২০১১ সালে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত ইউরোপীয় ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই দেশটির দিকে যাওয়ার সময় আটক করা হয়।

ইরানের তেলবাহী জাহাজ গ্রেস-১ আটকের ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রব ম্যাককায়েরকে তলব করে। বলা হচ্ছে আমেরিকার অনুরোধে সাড়া দিয়েই ব্রিটিশ মেরিন সেনারা ওই জাহাজ আট করেছে যা কিনা খুবই বিপদজনক ও খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ সিরিয়ার বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হচ্ছে তা জাতিসংঘের ঘোষিত কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

আন্তর্জাতিক পানি সীমায় গায়ের জোর খাটিয়ে ও বেআইনিভাবে জাহাজ আটকের ঘটনা জলদস্যুতা ছাড়া আর কিছুই নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি তেহরানে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এর প্রতিবাদ জানানোর কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এ পদক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পানি সীমানায় এ ধরণের যেকোনো পদক্ষেপ বেআইনি যা আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে করে চলেছে। জিব্রাল্টার প্রণালীতে ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটকের ঘটনা থেকে বোঝা যায় ব্রিটেন আমেরিকার ধ্বংসাত্মক নীতি অনুসরণ করছে। আমেরিকা গত বছরের ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফের ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেই ক্ষান্ত হয়নি একই সঙ্গে অন্য দেশকেও এই নিষেধাজ্ঞায় শামিল হতে বাধ্য করছে।

ব্রিটেন এমন সময় আন্তর্জাতিক পানি সীমায় জাহাজ আটক করে বিতর্কের জন্ম দিল যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমেরিকার কথামত এ ধরণের পদক্ষেপের বিরোধী ছিল। এক তরফা পদক্ষেপ কোনো সমস্যার তো সমাধান করবেই না বরং উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে। শুধু তাই নয় ইরানি তেলবাহী জাহাজ আট করে ব্রিটেন প্রমাণ করেছে আমেরিকার মোকাবেলায় ইউরোপ অক্ষম এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। এ ছাড়া, পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ারও কোনো ক্ষমতা ইউরোপের নেই। পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে এবং সহজে তেল বিক্রি বাবদ অর্থ দেশে আনতে পারবে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারলেই ইরানের সঙ্গে ইউরোপের প্রস্তাবিত অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা 'ইন্সটেক্স' অর্থপূর্ণ হবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি যেমনটি বলেছেন, নামমাত্র 'ইন্সটেক্স' ব্যবস্থার কোনোই মূল্য নেই এবং ইউরোপকে অবশ্যই তেল বিক্রিবাবদ অর্থ ইরানকে সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫