তেল ট্যাংকার মুক্ত: ইরানের কূটনৈতিক বিজয় এবং আমেরিকা ও ব্রিটেনের পরাজয়
-
ইরানি তেল ট্যাংকার ‘গ্রেস ওয়ান\\\'
ইরানের ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং জিব্রালটারের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত ইরানি তেল ট্যাংকার ‘গ্রেস ওয়ান'-কে ছেড়ে দিয়েছে জিব্রালটার সরকার। ইরানের তেল ট্যাংকার আটকে রাখার জন্য মার্কিন আহ্বান সত্বেও এটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেল ট্যাংকার ছেড়ে দেয়ার জন্য জিব্রালটার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ব্রিটেনের জন্য আরেকটি পরাজয়। একইসঙ্গে মার্কিন সরকারও তার মান ইজ্জত হারিয়েছে। কারণ তেল ট্যাংকার আটকে রাখার জন্য আমেরিকা যে আহ্বান জানিয়েছিল তা গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় শেষমেশ জাহাজ ছেড়ে দেয়ার এ ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। জাহাজ ছেড়ে দেয়ার জন্য ব্রিটেন সরকার যে শর্ত দিয়েছিল ইরান সরকার তা মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে কূটনৈতিক অঙ্গনে ইরানই বিজয়ী হয়েছে। জাহাজ আটকে রাখার জন্য আমেরিকার আহ্বান উপেক্ষা করে জিব্রালটার সুপ্রিম কোর্ট তা ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া থেকে বোঝা যায়, আমেরিকার প্রতি ব্রিটেনের আস্থা নেই এবং তারা সবক্ষেত্রে মার্কিন খেলার পুতুল হয়ে থাকতে চায় না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বলেছেন তিনি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সংঘাতে যেতে চান না তখন স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটেন বুঝতে পেরেছে এ অঞ্চলে ব্রিটেনকে নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। এ কারণে ব্রিটেন এখন আর আমেরিকার ওপর ভরসা করতে পারছে না এবং এ অবস্থায় ব্রিটেনও চায় না পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত থাকুক। কারণ তারা জানে এতে লন্ডনের কোনো লাভ হবে না। এ ছাড়া ব্রিটেন বর্তমানে ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপের সঙ্গে মহাসংকটের মধ্যে আছে।
কিন্তু ইরান একদিকে শক্তিশালী কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে অন্যদিকে ব্রিটেনও ব্রেক্সিট নিয়ে সংকটে থাকায় লন্ডন বাধ্য হয়েছে ইরানের জাহাজ ছেড়ে দিতে। বিশেষ করে ব্রিটেন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইরানের তেলবাহী জাহাজ আটক করায় তারা এ নিয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি। বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকলেও তা হাসিল করতে পারেনি। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘনের দায়ে ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজ আটক করে ইরান আমেরিকা ও ব্রিটেনকে এটা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা এ অঞ্চলে যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেবে এবং তেহরান কাউকে ছাড় দেবে না।
কিন্তু ব্রিটেন বেআইনিভাবে ইরানের তেল ট্যাংকার আটক করেছিল। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ জারিফ গতরাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার প্রতি ব্রিটেনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কোনো কিছুরই পরিবর্তন হয়নি এবং ইরানের জাহাজ আটকের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।
ব্রিটেন দাবি করেছিল ইরানের তেল ট্যাংকার গ্রেস-ওয়ান ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল বলেই সেটিকে আটক করা হয়। অথচ ইউরোপের ওই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ইরান তা মানতে বাধ্য নয়। আর দ্বিতীয়ত ইরানের জাহাজ সিরিয়ার দিকে যাচ্ছিল না।
যাইহোক, জিব্রালটার প্রণালীতে আটক ইরানের জাহাজ ছেড়ে দেয়ার ঘটনাকে ইরানের জন্য বিরাট কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬