ইরাকি হিজবুল্লাহ, হাশ্দ আশ-শাবি'র উত্থান: আতঙ্কিত আমেরিকা ও ইসরাইল
-
ইরাকি হিজবুল্লাহ
ইরাকের হিজবুল্লাহ ব্রিগেডস এক বিবৃতিতে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশ্দ আশ-শাবির ওপর অব্যাহত হামলার পরিণতির ব্যাপারে আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়েছে। গত শনিবার ইরাকের হাশ্দ আশ-শাবির একটি সামরিক ঘাঁটিতে শত্রুপক্ষের হামলায় সেখানে আগুন ধরে যায়। গত এক মাসের মধ্যে এই নিয়ে চতুর্থবার হামলার ঘটনা ঘটল।
হাশ্দ আশ-শাবির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল-মুহান্দেস বলেছেন, "এসব ঘাঁটিতে হামলার জন্য আমেরিকা ইসরাইলের চারটি ড্রোন ব্যবহার করেছে এবং সম্প্রতি তার বাহিনীর ওপর যে হামলা হয়েছে তার জন্য সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব মার্কিন সেনাদের উপর বর্তায়।"
কিন্তু আমেরিকা ও ইসরাইল কেন বারবার ইরাকের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশ্দ আশ-শাবির ঘাটিতে হামলা চালাচ্ছে সেটাই এখন প্রশ্ন। প্রথম জবাব হচ্ছে, মাত্র কয়েক বছরে হাশ্দ আশ-শাবির নতুন আগমন ঘটলেও ইরাকের নিরাপত্তা, সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ নির্মূলে হাশ্দ আশ-শাবির বিরাট ভূমিকা রয়েছে। যদিও দায়েশ নির্মূলের কথা বলে আমেরিকা আন্তর্জাতিক জোট গঠন করেছিল কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তারা কখনোই চায়নি দায়েশ ইরাক থেকে বিতাড়িত হোক। বরং আমেরিকা দায়েশকে শক্তিশালী করা এবং নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদেরকে ব্যবহার করেছে। এরপর ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলার জন্য হাশ্দ আশ-শাবি জোট গঠন করা হয়। ইরাকের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এই জোটের তৎপরতার কারণে এ অঞ্চলে মার্কিন ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে।
গত বছর ইরাকে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে এই জোটের অন্যতম শরীক মোক্তাদা সাদর সর্বোচ্চ আসন পায় এবং এটাও প্রমাণিত হয় ইরাকের রাজনৈতিক কাঠামোয় হাশ্দ আশ-শাবি জোটের প্রভাব রয়েছে। এই জোট মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মোড়লিপনার তীব্র বিরোধী এবং দখলদার ইসরাইলকে তারা এক নম্বর শত্রু মনে করে। ইসরাইল ও আমেরিকার সঙ্গে হাশ্দ আশ-শাবির দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট। এ অবস্থায় আমেরিকা ও ইসরাইল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যে জুড়ে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের প্রভাব বিস্তার ঠেকানোর জন্য আমেরিকা ও ইসরাইল উঠেপড়ে লেগেছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ইরাকে হাশ্দ আশ-শাবি জোটের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া, এ ধরণের হামলা চালিয়ে আমেরিকা ও ইসরাইল আরেকটি বিষয় দেখানোর চেষ্টা করছে যে ইরাকে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে ফাটল ধরেছে। কারণ হাশ্দ আশ-শাবির কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি সুন্নি অধ্যুষিত অঞ্চলেও মোতায়েন রয়েছে। হামলার তৃতীয় সম্ভাব্য কারণ হচ্ছে, সিরিয়া সংকটেও হাশ্দ আশ-শাবি জোট দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের সর্বশেষ ঘাঁটি দখলের জন্য সেনাবাহিনী যে অভিযান চালাচ্ছে সেখানেও হাশ্দ আশ-শাবি অংশ নিয়েছে।
হাশ্দ আশ-শাবির ঘাটিতে ইসরাইল-মার্কিন হামলার চতুর্থ কারণ হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা। সব ক্ষেত্রেই ইরান ও ইরাকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। কিন্তু আমেরিকা ও ইসরাইল দেখানোর চেষ্টা করছে কেবল হাশ্দ আশ-শাবিকে কেন্দ্র করেই এ সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রয়েছে। ইসরাইল ও আমেরিকা এটাও দেখানোর চেষ্টা করছে যে ইরানের ওপর হামলা চালাতে না পারলেও তাদের সহযোগীদের ওপর হামলার চালানোর ক্ষমতা তাদের আছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩