আরাকচির বেইজিং সফর: কথা হবে পরমাণু সমঝোতায় ইরানের অধিকার নিয়ে
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি তার চীনা সমকক্ষের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বেইজিং সফরে গেছেন। এ সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আলোচনার শুরু থেকেই পরামর্শের জন্য ইরান, চীনও রাশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আরাকচির এবারের সফরের উদ্দেশ্য সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
পরমাণু সমঝোতায় সইকারী পাশ্চাত্যের দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় এ চুক্তি প্রায় ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, "এতে ইরানের যে অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করার কথা ছিল তা মানা হয়নি। এ বিষয়ে ইরান ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আজ কথাবার্তা হবে।"
বেইজিংএ ইরান ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন আগামী শুক্রবার উপমন্ত্রী পর্যায়ে পরমাণু সমঝোতা বিষয়ক যৌথ কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর আগে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া ইরানের অধিকারের ব্যাপারে বলেছিলেন, সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের ন্যায্য অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বার্থ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পর এবং ইউরোপও ইরানকে দেয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উচ্চ পরিষদ গত মে মাসে এক বিবৃতিতে সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, "পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে যদি ইরানের তেল বিক্রি ও ব্যাংকখাতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া না হয় তাহলে ইরানও পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে।"
এরইমধ্যে ইরান প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার বিষয়টি সম্পন্ন করেছে এবং এখন চতুর্থ পর্যায়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইরান গত নভেম্বর থেকে ফোরদু পরমাণু প্রকল্পের সেন্ট্রিফিউজগুলোতে গ্যাস ঢোকানো এবং ৪.৫ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে।
যাইহোক, আরাকচির বেইজিং সফরে পরমাণু বিষয় ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়েও কথাবার্তা হবে। ইরান ও চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দু'টি প্রভাবশালী দেশ এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এ ছাড়া, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ দুদেশের মধ্যে সহযোগিতা বজায় রয়েছে। এ কারণে আরাকচির বেইজিং সফরে পরমাণু সমঝোতার বিষয়টি ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র সম্পর্ক ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ক পরিষদের প্রধান কামাল খাররাজি তেহরান-বেইজিং সম্পর্কের ব্যাপারে বলেছেন, দু'দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আঞ্চলিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইরান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে চীন মনে করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চীনের এ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১