দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ইরানের যৌথ নৌমহড়ার উদ্দেশ্য কি শুধুই নিরাপত্তা?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i76216-দুই_বৃহৎ_শক্তির_সঙ্গে_ইরানের_যৌথ_নৌমহড়ার_উদ্দেশ্য_কি_শুধুই_নিরাপত্তা
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে ইরান, রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে। তিনি বলেছেন, ভারত মহাসাগর ও ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই নৌমহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯ ১৮:১২ Asia/Dhaka
  • দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ইরানের যৌথ নৌমহড়ার উদ্দেশ্য কি শুধুই নিরাপত্তা?

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরে ইরান, রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনী যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে। তিনি বলেছেন, ভারত মহাসাগর ও ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই নৌমহড়া অনুষ্ঠিত হবে।

জেনারেল শেকারচি গতকাল (বুধবার) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রিদেশীয় যৌথ সামরিক মহড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্যে ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বিশ্বের বহু দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ এই রুট দিয়ে চলাচল করে। কাজেই এখানকার নিরাপত্তা রক্ষার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন আগামীকাল শুক্রবার থেকে চারদিন ব্যাপী এ মহড়া চলবে।

ইরান সবসময়ই সমুদ্র নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে আসছে এবং এ কারণেই দেশটির নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ আন্তর্জাতিক সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। জলদস্যুতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান উদ্দেশ্য। ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ এলাকার নিরাপত্তা খুবই জরুরি। এ দিকটি লক্ষ্য রেখেই অর্থাৎ সমুদ্র নিরাপত্তা এবং সমুদ্র পথে জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার অনুশীলনের জন্য ইরান, রাশিয়া ও চীন ওই অঞ্চলে খুব শিগগিরি যৌথ সামরিক মহড়া চালাতে যাচ্ছে।

এই তিনটি দেশেরই সমুদ্রে চলাচলের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে তারা ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় আরো বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগর বাণিজ্য জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এ অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্ব আগের চেয়ে বহুগুণে বেড়ে গেছে এবং এ কারণে ইরান, রাশিয়া ও চীনের যৌথ নৌমহড়ার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। এ ছাড়া এ মহড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও বিশেষ বার্তা বহন করছে।

প্রথমত, এ অঞ্চলের দেশগুলোকেই সমুদ্র বাণিজ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে এবং সমুদ্রে তাদের উপস্থিতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয় বার্তা হচ্ছে, এই মহড়ার রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং এতে প্রমাণিত হবে ত্রাণ, সামরিক ও সমুদ্র নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই তিন দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রয়েছে। এ ছাড়া, রাশিয়া হচ্ছে এ অঞ্চলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র দেশ। অন্যদিকে চীনও ইরানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী তেল কিনে থাকে। এসব কারণে এই তিন দেশের মধ্যকার সহযোগিতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

তুরস্কের আনাতোলি বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ইরান, রাশিয়া ও চীনের যৌথ নৌমহড়া মূলত আমেরিকার মোকাবেলায় এক ধরনের শক্তি প্রদর্শন। এ ছাড়া, চীন ও রাশিয়ার মত দুটি বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ইরানের সামরিক মহড়া থেকে বোঝা যায়, সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা ছাড়াও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা করছে তেহরান।# 

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৬