চিকিৎসা ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ: করোনা পরিস্থিতিতেও ইরানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছোবল
একতরফা ও বেআইনি নিষেধাজ্ঞা মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অস্ত্র ব্যবহারের প্রবণতা থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে ইরানের যেসব পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারমধ্যে ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি করলেও তারা ইরানের ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড ও অর্থ লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইরান ওষুধসহ কোন জরুরী পণ্যই আমদানি করতে পারছে না।
গতবছর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির ভয়ে বিশ্বের কোন ব্যাংক কিংবা কোম্পানি ইরানের সঙ্গে লেনদেন করতে পারছে না। সে কারণে ইরান ওষুধের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসও আমদানি করতে পারছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রসহ অতি জরুরি ওষুধসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী আনতে পারছে না। ফলে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইরান কঠিন সংকটে পড়েছে।
তবে এত নিষেধাজ্ঞার পরও করোনা চিকিৎসায় ইরান সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি বলেছেন, মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সারা বিশ্ব এক্ষেত্রে ইরানের সাফল্য দেখতে পাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রথম ৫০ দিনের মধ্যে ইরানে স্যানেটারাইজ ও মাস্ক উৎপাদনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও নিজ দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধী সামগ্রী রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। এর আগে গত সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রীদের ৬৭তম বৈঠকে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্কিন ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কয়েকটি দেশ ইরানে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে ইরানে তৃতীয় দফা করনা ভাইরাসের প্রকোপ চলছে। ইরানের আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়েছে। মার্কিন ধ্বংসাত্মক নিষেধাজ্ঞার কারণে শুধু ওষুধের ক্ষেত্রেই নয় অন্যান্য রোগের চিকিৎসায়ও মারাত্মক সংকট ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইরানে। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন যেখানে মানুষের বেঁচে থাকা, সুস্থ থাকা এবং ওষুধ ও খাদ্যের মত জরুরি পণ্যের অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ইরানের ওষুধ আমদানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণ এতটাই হীন ও জঘন্য যে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনও কিছুদিন আগে এক বিবৃতিতে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞাকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে। এত সমালোচনা ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞার অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪