সীমান্তে ইসরাইল-মার্কিন ষড়যন্ত্রের প্রতি গভীর নজর রাখছে তেহরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i98120-সীমান্তে_ইসরাইল_মার্কিন_ষড়যন্ত্রের_প্রতি_গভীর_নজর_রাখছে_তেহরান
যে কোনো যুদ্ধ ও উত্তেজনা থেকে দূরে থাকা ইসলামি ইরানের প্রধান নীতি। কিন্তু তাই বলে দেশটির বিরুদ্ধে বাইরের কারো হুমকির কাছে ইরান কখনো মাথা নত করেনি এবং যারাই এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ইরান।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
অক্টোবর ০২, ২০২১ ১৮:১৫ Asia/Dhaka

যে কোনো যুদ্ধ ও উত্তেজনা থেকে দূরে থাকা ইসলামি ইরানের প্রধান নীতি। কিন্তু তাই বলে দেশটির বিরুদ্ধে বাইরের কারো হুমকির কাছে ইরান কখনো মাথা নত করেনি এবং যারাই এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে ইরান।

শত্রুকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য ইরান নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের সামরিক মহড়ার আয়োজন করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ইরান 'ফাতহান খয়বার' নামে সামরিক মহড়া  চালিয়েছে। উত্তর পশ্চিম ইরানে পরিচালিত এ বিশাল মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের সাজোয়া যান, কামান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম একটি লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের ওপর নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি এ অঞ্চলে ইরানকে দ্বন্দ্ব সংঘাত ও যুদ্ধে লিপ্ত রাখা। ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়েই ওয়াশিংটন ইসরাইলের সঙ্গে রাজতন্ত্র শাসিত আরব সরকারগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে ইরান বিরোধ জোটকে আরো শক্তিশালী করতে চাইছে। 

বাস্তবতা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইল কয়েকটি আরব দেশের ওপর  তাদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের জাতিগুলোর ইসলাম ও মুসলিম পরিচিতিকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে তারা ইরানসহ অন্যান্য প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলোকে দুর্বল করা এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির জন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক বিস্তারে উঠেপড়ে লেগেছে। অন্য কথায় বলা যায় এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে স্থায়ী ঝগড়া ঝাটি ও বিভেদ সৃষ্টির জন্য ইসরাইল সামরিক ও রাজনৈতিক কূটকৌশল নিয়েছে।

তবে ইসলামি ইরান সবসময় এ অঞ্চলে ইসরাইল ও আমেরিকার ষড়যন্ত্রের প্রতি গভীর নজর রেখে চলেছে। তেহরান মনে করে পারস্য উপসাগর ও এর আশেপাশের অন্যান্য এলাকায় ইসরাইলের উপস্থিতি সমগ্র এ অঞ্চলের জন্য বিরাট হুমকি। তবে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করার সুযোগ ইরান কাউকে দেবে না। তাই উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বিশাল সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ইরান শত্রুদের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে তাদের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে ইসরাইল সবসময়ই মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও উত্তেজনা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। যেহেতু তারা বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে সে কারণে তারা ইরানের প্রতিবেশী অঞ্চলগুলোকে টার্গেটে পরিণত করেছে যাতে ইরানকে অন্য দিকে ব্যস্ত রাখা যায় এবং ইসরাইলের দিকে তাকানোর সুযোগ না পায়। দৈনিক রাই আল ইয়াওমের সম্পাদক আব্দুল বারি আতাওয়ান ইসরাইলের সঙ্গে কয়েকটি আরব দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে ইরানের পাশেই ইসরাইলের পা রাখার সুযোগ তৈরি হওয়ার  কথা উল্লেখ করে বলেছেন, আমেরিকার প্রত্যক্ষ সমর্থন নিয়ে ইসরাইল কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা গড়ে তুলেছে যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে মোকাবেলা করা। ইসরাইলের ইন্ধনেই সম্প্রতি কয়েকটি আরব দেশের নেতাদের ইরান বিরোধী বক্তব্যকে এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন  আমির আব্দুল্লাহিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইরান বিরোধী তৎপরতাকে তেহরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না। তিনি তেহরানে আজারবাইজানের নতুন রাষ্ট্রদূত আলী আলীযাদের পরিচয়পত্র গ্রহণের সময় এই দুই দেশের সীমান্তে ইসরাইলের সাম্প্রতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি তেহরান কোনোভাবেই সহ্য করবে না এবং সীমান্তে ইসরাইলের ষড়যন্ত্র রোধে ইরান যে কোনো পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। কেননা আঞ্চলিক বহু সংকটের কলকাঠি নাড়ছে ইসরাইল। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২