রেডিও তেহরান: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i106980-রেডিও_তেহরান_সাম্রাজ্যবাদী_শক্তির_বিরুদ্ধে_বলিষ্ঠ_কণ্ঠস্বর
১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি’র বিশ্ব কার্যক্রমের অধীনে বাংলা বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে এবং সে হিসেবে বাংলা বিভাগ ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল ৪০ বছর পূর্ণ করেছে। অবৈধ দখলদার ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রেডিও তেহরানের সরব উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি গণমাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের বিষয়। এ মাহেন্দ্রক্ষণে রেডিও তেহরানের একজন শ্রোতা ও ওয়েবসাইটের পাঠক হিসেবে নিজেকে আমি সত্যিই ধন্য ও গৌরব বোধ করছি।
(last modified 2026-04-22T07:21:27+00:00 )
এপ্রিল ২২, ২০২২ ০৮:১২ Asia/Dhaka
  • রেডিও তেহরান: সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

১৯৮২ সালের ১৭ এপ্রিল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি’র বিশ্ব কার্যক্রমের অধীনে বাংলা বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে এবং সে হিসেবে বাংলা বিভাগ ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল ৪০ বছর পূর্ণ করেছে। অবৈধ দখলদার ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রেডিও তেহরানের সরব উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি গণমাধ্যম হিসেবে অত্যন্ত গৌরব ও সম্মানের বিষয়। এ মাহেন্দ্রক্ষণে রেডিও তেহরানের একজন শ্রোতা ও ওয়েবসাইটের পাঠক হিসেবে নিজেকে আমি সত্যিই ধন্য ও গৌরব বোধ করছি।

শুরুতে রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগ সে সময় প্রতিদিন ৩০ মিনিটের অনুষ্ঠান প্রচার করতো কিন্তু বর্তমানে শ্রোতা পাঠকের আগ্রহ ও চাহিদার কারণে সান্ধ্য ও নৈশ অধিবেশনে মোট দেড় ঘণ্টার লাইভ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। রেডিও তেহরান প্রথমেই সুললিত কণ্ঠে অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করে যা অন্যান্য আন্তর্জাতিক বেতারে একেবারেই দেখা যায় না। তারপর বিশ্বসংবাদ, সংবাদ ভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত, পত্রপত্রিকার খবরের অনুষ্ঠান কথা-বার্তা, সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান রংধনু, শ্রোতাদের চিঠিপত্রের অনুষ্ঠান প্রিয়জন, আসমাউল হুসনা, ইরানের পণ্য সামগ্রী, দর্পণ, স্বাস্থ্যকথা, প্রাচ্যবিদদের চোখে মহানবী (স.), ইরান ভ্রমণ, পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদি অনুষ্ঠান প্রচার করে প্রতিদিন একের পর এক শ্রোতাদের হৃদয় জুড়িয়ে দেয়।

রেডিও তেহরান সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী দালাল মিডিয়াগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী একটি গণমাধ্যম। সত্য প্রকাশ ও প্রচারে অকুতোভয় ও আপোষহীন এবং এর একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠভাবে সকলের বক্তব্য তুলে ধরা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত হওয়া ঘটনাপ্রবাহ সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে প্রচার ও তুলে ধরাই হচ্ছে রেডিও তেহরানের ব্রত এবং উদ্দেশ্য। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দুনিয়ার মুসলমানদের যেসব খবর পশ্চিমা গণমাধ্যম তুলে ধরতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে কিংবা ইচ্ছে করেই প্রচার করে না, সেসব খবর রেডিও তেহরান গুরুত্বের সাথে শ্রোতাদের সামনে অকপটে তুলে ধরে। বিশ্বের নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, মজলুম মানুষের আহাজারি- সেটা হোক না জম্মু-কাশ্মীর, ইয়েমেন, রোহিঙ্গা কিংবা ফিলিস্তিন অথবা অন্য কোন নির্যাতিত দেশ- তাদের পাশে রেডিও তেহরান অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পাশে দাঁড়ায়। তাদের সুখ দুঃখের কথা অকপটে নিঃসঙ্কোচ দ্বিধাহীনভাবে প্রচার ও প্রকাশ করে। তারা কারও রক্তচক্ষু বা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোকে বিন্দুমাত্র ভয় পায় না বা সত্য প্রকাশে বিচলিত হয় না।

দীর্ঘ চার দশকের পথ পরিক্রমায় রেডিও তেহরান এখন বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে একটি বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম, শ্রোতাদের ভালোবাসার মধ্যমনি। বাংলাদেশ, ভারত ও বহিঃবিশ্বে বাংলা ভাষা-ভাষী শ্রোতা পাঠকের কাছে বাংলাভাষী প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রতিদিনই রেডিও তেহরান থেকে খবর নিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করা হয়। শুধু তাই নয়, আইআরআইবি’র বিশ্বকার্যক্রমের অধীনে অর্ধশতাধিক ওয়েবসাইটের মধ্যে হিট সংখ্যার দিক থেকে রেডিও তেহরান বাংলা দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষে অবস্থান করছে। এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার এবং গর্বের বিষয়ও বটে।

গত প্রায় চার দশক ধরে রেডিও তেহরান বাংলা অনুষ্ঠানের সাথে আমার মতো অগণিত শ্রোতা পাঠকের ওতপ্রোতভাবে লেগে থাকা, ভালোবাসা ও জীবনঘনিষ্ঠ করে নেবার একটি মাত্র কারণ, আর তা হলো- এ বেতার থেকে প্রচারিত প্রতিদিনের শ্রোতানন্দিত বিশ্বসংবাদ ও জীবন ঘনিষ্ঠ ইসলামী ভাবধারার বিভিন্ন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান।

আমেরিকা কথায় কথায় গণতন্ত্রের ছবক দেয়, বিশ্বের মোড়লীপনা দাবি করে এবং সব সময় তথাকথিত মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। মূলত এসবের আড়ালে দখলদার ও উড়েএসে জুড়ে বসা ইহুদিবাদী ইসরাইলের স্বার্থ সুরক্ষা করাই যেখানে আমেরিকার তথাকথিত গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র! সেখানে বিশ্বের যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে রেডিও তেহরান সেখানেই বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সেই সাথে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের খবরাখবরগুলো খুবই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। খবরের সত্যতা নিরূপনের জন্য প্রতিদিন ভারত ও বাংলাদেশের সংবাদদাতা ঢাকা ও কোলকাতা থেকে মাঠ পর্যায়ের কথাবার্তা ও প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। যা শুনে রেডিও তেহরানের বস্তুনিষ্ঠ বিশ্বসংবাদে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ খুঁজে পাওয়া যায় না।

করোনা ভাইরাসের মতো চরম কান্তিকালে যেখানে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেখানে ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করে মার্কিন সরকার প্রমাণ করেছে তারা তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে কত নীচু প্রকৃতির মূল্যবোধ ধারণ করে! এ করুণ মহামারীর সময় তারা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আমদানি করতে বাঁধা দিতেও বিন্দুমাত্র কুন্ঠাবোধ করেনি। আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক অতি জরুরি টিকা আমদানি করতে পারেনি, যা অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্বেষমূলক আচরণের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। তথাকথিত মানবাধিকারের বুলি আওড়ান আমেরিকার মিত্র দেশগুলোও এক্ষেত্রে নিরব ছিল। শুধু তাই নয়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য আমেরিকা তার বন্ধুপ্রতীম দেশ জার্মানিতে পাঠানো কিছু চিকিৎসা সামগ্রী ব্যাঙ্কক বিমান বন্দর থেকে ফেরত নিয়েছিল এবং কানাডায় পাঠানো কিছু চিকিৎসা সামগ্রী আটকিয়ে দিয়েছিল! জার্মানি একে আধুনিক কুটনীতির ইতিহাসে প্রকাশ্য চৌর্য্যবৃত্তি বলে বর্ণনা করেছিল।

তাছাড়া, আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন তাদের সমস্ত ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানের সাথে সম্পাদিত ছয় জাতীর পরমাণু সমঝোতা চুক্তি থেকে একতরফাভাবে নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। শুধু নিজেদেরকে প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হয়নি, আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদেরকেও বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করেছিল। চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলো আমেরিকার এ সিদ্ধাস্তকে চরম অপরিপক্ব সিদ্ধাস্ত বলে অভিহিত করেছিল। বাইডেন প্রশাসন নির্বাচনের সময় ইরানের সাথে সম্পাদিত পরমাণু সমঝোতায় প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আলোচনার নামে মূলত সময়াক্ষেপণ করছে এবং ট্রাম্পের পাতানো ছকেই হাঁটা শুরু করেছে। যদিও ইরান বারবার বলছে তারা শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী এবং বর্তমানে তারা সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তান যখন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়, তখন বিশ্ব শক্তিধর দেশের অনেকে হুমকি-ধমকি দিয়ে অবরোধের মতো অনেক কিছু করতে দেখা গেছে, আসলে শেষ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের কিছুই করতে পারেনি। এক্ষেত্রে, ইরানের সাথে সম্পাদিত ছয় জাতীর চুক্তি থেকে আমেরিকার একতরফা প্রত্যাহার বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশ প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমেরিকার কুটনীতি, পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে ইরানের অর্থনীতি ও কুটনীতি। একইভাবে ইয়েমেন ও সিরিয়া বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ইসরাইল ও সৌদি আরবের মিত্র হিসেবে আমেরিকা কাজ করেছে।

ইরানি শীর্ষ জেনারেল কাশেম সোলাইমানিকে সন্ত্রাসী কায়দায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহীদ করার পর ইরানের পাল্টা হামলায় আমেরিকার তৎকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন টু শব্দটি পর্যন্ত করতে সাহস পাননি। আমেরিকা, ইসরাইল ও সৌদি আরবের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রেডিও তেহরানের বলিষ্ঠ ভুমিকা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

রেডিও তেহরান শুধু দখলদার ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরই নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনে অনন্য একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। শ্রোতারা যত শুনি ততই মুগ্ধ ও বিমোহিত হই। শিশুদের জন্য রংধনু, কোরআনের আলো, মহান আল্লাহর বিভিন্ন নাম নিয়ে অনুষ্ঠান আসমাউল হুসনা, আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর, পাশ্চাত্যে জীবন ব্যবস্থা, আদর্শ জীবনযাপন ইত্যাদি প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান অত্যন্ত জীবন ঘনিষ্ঠ, মানবিক, বাস্তবভিত্তিক, নৈতিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ এবং বাস্তব জীবনে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। অনুষ্ঠানের পরতে পরতে কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স থাকে, যা সত্যিই অনন্য ও মনোমুগ্ধকর। পাশ্চাত্য গণমাধ্যম যেখানে বিবাহবহির্ভূত লিভ টুগেদার, খোলামেলা পোশাকের নামে নারী অধিকার, বেপরোয়া জীবন যাপনকে স্বাধীনতা, নেশা জাতীয় হারাম বস্তুর পক্ষে সোচ্চার, সেখানে রেডিও তেহরান উপরোক্ত অনুষ্ঠান প্রচার করে তরুণ সমাজকে প্রত্যেকটি বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে, ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করছে। এগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারলে আমাদের ব্যক্তিগত চরিত্র, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ও প্রতিষ্ঠায় নিশ্চয়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া, রেডিও তেহরান শুধু মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বই করে না, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা মজলুম জনতার কথাও তুলে ধরে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে রেডিও তেহরানের বার্তা প্রতি ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকায় তাদের বিশ্বসংবাদের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে রেডিও তেহরানের বিশ্বসংবাদ বিশ্বের সকল গণমাধ্যমের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দখল করে নেবে এ বিশ্বাস, প্রত্যয় ও প্রত্যাশা আমাদের আছে। একইসাথে পাশ্চাত্য নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে রেডিও তেহরানের বলিষ্ঠ ভূমিকা শ্রোতা ও পাঠকদের মাঝে আলোকবর্তিকা হিসেবে অনন্য হয়ে থাকুক অনন্তকাল, সে দোয়া ও প্রত্যাশা করি।

 

মা-আসসালাম

বিনীতভাবে

মো. জিল্লুর রহমান

ব্যাংকার ও লেখক,

সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।