সৌদিতে সরকার-বিরোধীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া সবচেয়ে সহজ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i10051-সৌদিতে_সরকার_বিরোধীদের_মৃত্যুদণ্ড_দেয়া_সবচেয়ে_সহজ
সৌদি আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে বিশ্বজনমতসহ নানা মহলের অভিযোগ, প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া ক্রমেই বাড়ছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মে ২২, ২০১৬ ১৫:৩৭ Asia/Dhaka

সৌদি আরবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে বিশ্বজনমতসহ নানা মহলের অভিযোগ, প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া ক্রমেই বাড়ছে।

সৌদি সরকার তার সমালোচক রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ফাঁসি দিচ্ছে অথবা তাদেরকে বহু বছরের কারাদণ্ড দিয়ে যাচ্ছে। এ সম্পর্কে প্রতিবাদ জানিয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, কোনো ধরনের বিচার ছাড়াই সৌদি সরকার ও প্রশাসন সৌদি নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

ইউরোপীয় মানবাধিকার সংস্থার সৌদি শাখা জানিয়েছে, গত বছরের ২৬ জুলাই সৌদি আরবের একটি আদালত ইউসুফ আল মাশিখসের বিচার শুরু করে। গত ২০ এপ্রিল তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে সৌদি আদালত। সৌদি এটর্নি জেনারেলের দৃষ্টিতে মাশিখসের অপরাধ হল তিনি সরকার-বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন এবং তিনি সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা দিয়েছেন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে গুলি ছুঁড়েছেন।

সৌদি সরকার চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৯০ সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। গত বছরও সৌদি সরকার ১৫৩ জন সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। গত দোসরা জানুয়ারি সৌদি সরকার ৪৭ জন বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। একইসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ছিল সৌদিতে গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সবচেয়ে বড় ঘটনা। ওই একই দিনে কার্যকর করা হয় সংগ্রামী সৌদি আলেম শেইখ নিমর-এর মৃত্যুদণ্ড। বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ জানায় মুক্তিকামী মহল।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি সরকার ভিত্তিহীন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে দেশটির নাগরিকদের। তারা বলছেন সৌদি আইন-কানুন ও বিচার-বিভাগের অবস্থা তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএসআইএল-এর অনুরূপ। সহিংসতা, হিংস্রতা ও নৃশংসতাই হচ্ছে এর নানা সংস্থা ও কাঠামোর চরিত্র। সৌদি বিচার কার্যক্রমে মানা হচ্ছে না ধর্মীয় ও আইনি বিধি-বিধান। বিনা বিচারে বন্দীশালায় আটক রাখা হচ্ছে নাগরিকদের। মৃত্যুদণ্ড দেয়া অতি-সাধারণ, সহজ ও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত বা নিত্যদিনকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলে সরকার-বিরোধীদের মুখ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়া এবং ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্যই মৃত্যুদণ্ডকে অপব্যবহার করছে সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার যাতে দেশটির কেউ এই অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলারই সাহস না পায়।

মধ্যযুগের রাজা-বাদশাহদের মতই অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ চালাচ্ছে সৌদি সরকার এবং তার দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে প্রতিবাদী রাজনৈতিক কর্মীরা। সৌদি নাগরিকরা বিন্দুমাত্র স্বাধীনতা রাখেন না। ফলে এই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে বিশ্ব-জনমত। জেল-জুলুমসহ নানা দমন-পীড়ন, ত্রাস সৃষ্টি ও নির্যাতন সত্ত্বেও সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়বিচারের দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। গণজাগরণের নেতা-কর্মীদের মুখ বন্ধ করতে পারছে না সৌদি সরকার।

সৌদি আরবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই। নেই রাজনৈতিক দল-ব্যবস্থা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কিংবা বাক-স্বাধীনতা। সৌদি সরকারের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শের ভিত্তি হল ধর্মান্ধতা ও কুপমণ্ডকতাকেন্দ্রীক ওয়াহাবিবাদ। যার পরিণতিতে গড়ে উঠেছে দায়েশ ও আলকায়দার মত হিংস্র এবং জঙ্গি নানা গোষ্ঠী। ফলে কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয় গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাস ও অশান্তির কালো মেঘ।

সৌদি সরকারের হিংস্রতা ও নগ্ন হস্তক্ষেপের শিকার হয়েই প্রাণ হারাচ্ছে ইরাক সিরিয়া ও ইয়েমেনের নারী ও শিশুসহবিপুল সংখ্যক নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ। আর সৌদি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর হামলায় বিশ্বের অন্য অনেক অঞ্চলেও প্রাণ হারাচ্ছে নিরপরাধ বহু মানুষ। #

পার্সটুডে/ মু. আ. হুসাইন/২২