পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i100750-পরমাণু_অস্ত্রমুক্ত_মধ্যপ্রাচ্য_বিষয়ক_সম্মেলনে_যোগ_দেয়নি_যুক্তরাষ্ট্র
দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়ার দাবি উঠলেও আজ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। গত সোমবার থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যন্থেনিও গুতেরেসের উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের বিষয়ে দ্বিতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ০২, ২০২১ ১৫:৩৩ Asia/Dhaka

দীর্ঘদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়ার দাবি উঠলেও আজ পর্যন্ত এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। গত সোমবার থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যন্থেনিও গুতেরেসের উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের বিষয়ে দ্বিতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে।

পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমেরিকা ও দখলদার ইসরাইলের বাধার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমেরিকা বহুকাল ধরে নিজেকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের প্রধান সমর্থক দাবি করে আসছে। কিন্তু বাস্তবে ওয়াশিংটন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ তো নেয়নি এমনকি পশ্চিম এশিয়ায় অপ্রচলিত অস্ত্রের যোগান দিচ্ছে। আমেরিকা এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় অস্ত্রের যোগানদাতা এবং একমাত্র পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী ইসরাইলের প্রধান সমর্থক।

আমেরিকা পরমাণু ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিমুখী আচরণ করে আসছে। আমেরিকা ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচীর বিরোধিতা করছে এবং এ অজুহাতে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ও নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে। কোনো কোনো সূত্রে জানা গেছে সৌদি আরব গোপনে পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে।

এদিকে নিউইয়র্কে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের বিষয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়নি। এ কারণে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে। ভিয়েনায় রুশ প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ এক টুইটার বার্তায় ওই আলোচনায় আমেরিকার জন্য বরাদ্দকৃত চেয়ারের ছবি প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে চেয়ার খালি পড়ে আছে। তিনি বৈঠকে অনুপস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার বৈঠক চলছে কিন্তু আমেরিকার চেয়ারটি খালি পড়ে আছে। অথচ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে  আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। 

মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার পথে দ্বিতীয় বড় বাধা হচ্ছে ইসরাইল এবং তারাই পশ্চিম এশিয়ায় একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধর। অবৈধ এ শক্তি পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন ও বিস্তার রোধ সংক্রান্ত এনপিটি চুক্তি থেকেও বিরত রয়েছে এবং পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গঠনের বিষয়ে আয়োজিত সম্মেলনেও যোগ দেয় না। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভানচি মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার দ্বিতীয় সম্মেলনে বলেছেন, এ সম্মেলনে পরমাণু শক্তিধর সব দেশ অংশগ্রহণ করলেও আমেরিকা ও ইসরাইল এ থেকে দূরে রয়েছে। একদিকে ইসরাইল এনপিটিতে যোগ দিচ্ছে না অন্যদিকে ইসরাইলের প্রতি রয়েছে আমেরিকার সমর্থন। এটাই মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। তাই  এ সংক্রান্ত বৈঠক কেবল তখনই সফল হবে যখন সব বৃহৎ শক্তি বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক হবে। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।