ধর্মীয় বিশ্বাস ও ফতোয়ার কারণে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না: পেজেশকিয়ান
-
মাসুদ পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে যাবে না। এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা সাময়িক সিদ্ধান্ত নয়; বরং ধর্মীয় বিশ্বাস ও একটি স্পষ্ট ধর্মীয় ফতোয়ার ভিত্তিতে নেওয়া অবস্থান।
তিনি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি পারমাণবিক অস্ত্রকে হারাম ঘোষণা করে যে ফতোয়া জারি করেছেন, সেটিই ইরানের নীতির মূল ভিত্তি।
আজ (বৃহস্পতিবার) উত্তরাঞ্চলীয় মাজান্দারান প্রদেশ সফরকালে পেজেশকিয়ান বলেন, “যখন ধর্মীয় নেতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন যে আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের পথে যাব না, তখন তা রাজনৈতিক কৌশল নয়; এটি ধর্মীয় ও শরিয়াভিত্তিক বিশ্বাসের অবস্থান, যা পরিবর্তনযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “একজন রাজনীতিবিদ পরিস্থিতি বিবেচনায় কথা বলতে পারেন, কিন্তু একজন ধর্মীয় নেতা তার বিশ্বাস ও ধর্মীয় বিধানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেন না।”
জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
একই দিনে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা করছে। এর আগে ৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই দফা পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি ও অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী জড়ো হওয়ার কারণে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, গত বছরের ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো 'সম্পূর্ণ ধ্বংস' হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান আবারও তার 'অশুভ' পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করছে।
ট্রাম্প ইরানে সাম্প্রতিক বিদেশ-সমর্থিত বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এতে অন্তত ৩২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা নিহতদের সংখ্যা ঘোষণা করেছি এবং এমনকি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও প্রকাশ করেছি। কেউ যদি এর চেয়ে বেশি দাবি করে, তাহলে প্রমাণ উপস্থাপন করা উচিত।”
ইরানের শহীদ ও ভেটেরান্স বিষয়ক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালে মোট ৩,১১৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জন ছিলেন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মী।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, নিহতদের মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ জন ছিলেন সামরিক সদস্য, যারা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুরা বিক্ষোভের সময় 'শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের' চেষ্টা করেছিল। তার ভাষায়, যারা মসজিদে আগুন দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করেছে, তাদের প্রতিবাদকারী বলা যায় না।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরান সন্ত্রাসবাদের শিকার। শত্রুরা দেশকে দুর্বল করার লক্ষ্যে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ জনশক্তিকে সরিয়ে দিতে চায়, যাতে সরকার সমস্যার সমাধানে অকার্যকর— এমন ধারণা সৃষ্টি করা যায়।
তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দিই এবং জনগণের সেবা করাকে আমাদের দায়িত্ব মনে করি। কোথাও ঘাটতি বা ত্রুটি থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করা আমাদের কর্তব্য।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের প্রিয় জনগণের সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে আমরা হৃদয়ের গভীর থেকে শোকাহত। নেতা বলেছেন, আমরা জনগণের শোকে শোকাহত; তবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও সহিংস কর্মকাণ্ডের মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য করতে হবে।”#
পার্সটুডে/এমএআর/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।