সৌদি তেলমন্ত্রী বললেন- রুশ বিরোধী নিষেধাজ্ঞা ‘বুমেরাং হতে পারে’
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পাশ্চাত্যকে সৌদি আরবের হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার জ্বালানী খাতের ওপর পাশ্চাত্যের দেয়া নিষেধাজ্ঞার পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সৌদি জ্বালানীমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান আলে সৌদ। তিনি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবিষ্যতে বিশ্বের জ্বালানী বাজারে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গতকাল (রোববার) একটি শিল্প সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, বিশ্ব বাজারে তেলের চাহিদা বেড়ে গেলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বুমেরাং হতে পারে। সৌদি মন্ত্রী বলেন, “এসব নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও সীমাবদ্ধতা একটি জায়গায় এসে জটিলতা তৈরি করতে পারে। আর তাহলো প্রয়োজনের সময় সব ধরনের জ্বালানী সরবরাহে ঘাটতি।আমার আশঙ্কার জায়গাটি সেখানে।”
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করার আগ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো ছিল রুশ জ্বালানীর প্রধান রপ্তানি বাজার। কিন্তু ওই অভিযান শুরু করার পর আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানী খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
রাশিয়া ও সৌদি আরব তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক প্লাসের সক্রিয় সদস্য। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটি এশিয়ায় সৌদি আরবের নিয়মিত গ্রাহকদের কাছে কম-মূল্যে জ্বালানী সরবরাহ শুরু করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ইউরোপে রাশিয়ার সাবেক বাজারের দিকে মনোনিবেশ করেছে।
২০২২ সালের জ্বালানী বাজারের এই পরিবর্তন থেকে কী শিক্ষা গ্রহণ করা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের উত্তরে সৌদি জ্বালানীমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এই যে, বিশ্ব ওপেক প্লাসের ওপর নির্ভর করতে পারে। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা জ্বালানী রপ্তানি করি এবং রাজনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করি।#
পার্সটুডে/এমএমআই/৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।