জাতিসংঘ বলছে ‘অসম্ভব’; হামাস মনে করছে ‘মিথ্যা প্রচারণা’
উত্তর গাজা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ
দখলদার ইসরাইল সরকার গাজা উপত্যকার গাজা শহরের অধিবাসীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহর খালি করার নির্দেশ দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ইহুদিবাদী সেনারা গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান চালানোর যে প্রস্তুতি নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ (শুক্রবার) সকালে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতি প্রকাশ করে গাজা উপত্যকার উত্তর অংশে বসবাসকারী অন্তত ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগেই উত্তর গাজা সীমান্তে ভারী অস্ত্রসস্ত্র ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে তেল আবিব।
আইডিএফ দাবি করেছে, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গাজা শহরে ‘উল্লেখযোগ্য’ অভিযান পরিচালনা করতে চায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহরে অভিযান শেষ হওয়ার পরই কেবল বেসামরিক ব্যক্তিরা আবার তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে পারবে; অবশ্য যদি ঘরবাড়ি বলে ততদিনে কিছু অবশিষ্ট থাকে। ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী ইওয়াভ গ্যালান্ট বলেছেন, “যুদ্ধের সময় ঘনিয়ে এসেছে।”
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এমন সময় এ হুঁশিয়ারি দিল যখন অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর পাশবিক হামলায় জাতিসংঘের ১১ কর্মী এবং জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নেয়া ৩০ শিক্ষার্থী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এছাড়া, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই উপত্যকায় ইসরাইলি পাশবিকতায় ১,৫৩৭ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৬,৬১২ জন আহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৫০০ শিশু এবং ২৭৬ জন নারী রয়েছেন।
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
তবে জাতিসংঘ ইসরাইলের এ আদেশ বাস্তবায়ন করা অসম্ভব ঘোষণা করে বলেছে, আইডিএফের এ আদেশের অর্থ হলো, গাজা শহরসহ আশপাশের সব অধিবাসীকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হবে। এটি আরো বলেছে, ইসরাইলি সেনাদের এ আদেশের মানবিক পরিণতি হবে বিধ্বংসী।
হামাস মনে করছে ‘মিথ্যা প্রচারণা’
গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, এটি তেল আবিবের একটি ‘ভুয়া প্রচারণা’। সংগঠনটি গাজাবাসীকে এই প্রচারণায় প্রতারিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হামাস পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদেরকে আল-আকসা মসজিদ অভিমুখে লংমার্চ করে গাজার ওপর ইসরাইলের বর্বরোচিত আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। #
পার্সটুডে/এমএমআই/এমএআর/১৩