গাজায় স্থল হামলা ইসরাইলের সবচেয়ে বড় একিলিস হিল
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i129992-গাজায়_স্থল_হামলা_ইসরাইলের_সবচেয়ে_বড়_একিলিস_হিল
গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনের ২৩ তম দিন আজ। এই সময়ের মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণীয় বিষয় আলোচনার দাবি রাখে। প্রথমত গাজায় ইসরাইলি স্থল অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি। উল্টো ইহুদিবাদী সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এমনকি ইসরাইলি পদস্থ এক সামরিক কমান্ডার হামাস বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছে বলে জানা গেছে।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
অক্টোবর ২৯, ২০২৩ ১৪:৪১ Asia/Dhaka

গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনের ২৩ তম দিন আজ। এই সময়ের মধ্যে বেশ কিছু লক্ষণীয় বিষয় আলোচনার দাবি রাখে। প্রথমত গাজায় ইসরাইলি স্থল অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের অগ্রযাত্রা চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি। উল্টো ইহুদিবাদী সেনাবাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এমনকি ইসরাইলি পদস্থ এক সামরিক কমান্ডার হামাস বাহিনীর হাতে বন্দী হয়েছে বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয়ত এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, গাজা যুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক বা একিলিস হিল হলো স্থল হামলা। ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রথম থেকেই স্থল অভিযানের ব্যর্থতার বিষয়ে সচেতন ছিল। সে কারণেই আল-আকসা তুফান অভিযানে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইল গত ২২ দিনে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্বিচার বিমান হামলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাদের ওই পাশবিক হামলায় ৭ হাজারেরও বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার। এক লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হতাহতের এই সংখ্যা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে।

ইসরাইল ভারী যন্ত্রপাতির জন্য জ্বালানী প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণে সময়মতো গাজার ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা যায় নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয় যে ইহুদিবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করার পথেও বাধা দিচ্ছে। বারবার ব্যর্থ স্থল অভিযানের কারণে তারা বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। তারা গাজায় পানি, খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানীর মতো প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত আলোচনা সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে ছিল কিন্তু পরক্ষণেই ব্যর্থতার কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচ্য তা হলো নেতানিয়াহুর বর্তমান মন্ত্রিসভা ইহুদিবাদী চরমপন্থীদের মাধ্যম গঠিত। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর তুলনায় নেতানিয়াহুর সরকার তাদের বন্দীদের জীবন সংরক্ষণের দিকে কোনো মনোযোগ দিচ্ছে না। এলোপাথাড়ি হামলা চালিয়ে তাদেরই বেশ কয়েকজন বন্দি সেনাকে হত্যা করেছে। এখন আবার মধ্যস্থতার পথে বাধা সৃষ্টি করে তাদের আরও বন্দি সেনাকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করছে।

তৃতীয় বিবেচ্য বিষয়টি হলো গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরাইল যুদ্ধ আইন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিধি-বিধান থেকে শুরু করে মানবাধিকার কনভেনশন এমনকি সকল আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি লঙ্ঘন করেছে। জাতিসংঘের মতো বিশ্ব সংস্থার প্রস্তাবকেও তারা উপেক্ষা করেছে। গাজায় তারা মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেয় নি বরং স্থল অভিযান শুরু করে এবং বিমান হামলা জোরদার করে গাজাবাসীদের দুর্ভোগ তীব্রতর করেছে। সেখানে তারা ইন্টারনেট কেটে দিয়েছে যেন গাজা পরিস্থিতি সম্পর্কে কেউ জানতে না পারে এবং বিশ্বব্যাপী সমালোচনা থেকে যেন মুক্তি পায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাণ্ডজ্ঞানহীন অবস্থান গ্রহণ। গাজা যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে তাদের মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারও গাজা পরিস্থিতির অবনতির আরেকটি কারণ। আর এইসব অপরাধের জন্য তাদের মদদদাতা সরকারগুলোও সমানভাবে দায়ী।#

পার্সটুডে/এনএম/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।