সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক:
‘সব ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে হলেও সব পণবন্দি মুক্ত করা উচিত ছিল’
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাক বলেছেন, গাজা যুদ্ধের শুরু থেকে তেল আবিবের এই ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল যে, ইসরাইল ‘সবার বিনিময়ে সবাইকে’ মুক্তি দিতে রাজি আছে।
তিনি বলেছেন, ইসরাইলি কারাগারে আটক সকল ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে হলেও গাজায় আটক সকল ইসরাইলি ‘পণবন্দিকে’ মুক্ত করে আনা উচিত ছিল।
তিনি গতকাল (শুক্রবার) ইসরাইলের ১২ নম্বর টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। ইহুদ বারাক বলেন, সে সময় হয়তো এই চুক্তি করা যায়নি কিন্তু তা করতে পারলে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে ইসরাইল বড় ধরনের বৈধতা লাভ করতে পারত।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচক সাবেক এই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে যেসব পণবন্দ গাজায় আটকে আছেন তাদের সঙ্গে অতীতের যেকোনো চুক্তির পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি ‘একটি সুনির্দিষ্ট ব্যর্থতার কারণে’ একজন সেনা আটকের ঘটনা নয় কিংবা ব্যক্তিগত ভুলের কারণে একজন ব্যবসায়ীর ধরা পড়ার ঘটনাও নয়।
২০০৭ সালে গাজা সীমান্তে অসতর্কতার কারণে গিলাদ শালিত নামক একজন ইসরাইলি সেনাকে আটক করেছিল হামাস। চার বছর বহু দেনদরবার করার পর ২০১১ সালে ১,১০০ ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তির বিনিময়ে শালিতকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। এছাড়া, একই ধরনের এক চুক্তির বিনিময়ে ২০০৪ সালে হামাসের হাতে আটক একজন ইসরাইলি ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিয়েছিল তেল আবিব।
সেই দুই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান আটকের ঘটনার তুলনা করে ইহুদ বারাক বলেন, ইসরাইল রাষ্ট্র এবারের পণবন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষা করার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি বরং তাদেরকে নিরাপত্তহীনতার মধ্যে ছেড়ে রাখা হয়েছিল, যে কারণে হামাস ৭ অক্টোবর তাদের ওপর হামলা করতে পেরেছিল। তিনি বলেন, এবার তেল আবিবকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, সে হামাসের হাতে আটক অসহায়ভাবে ছেড়ে রাখা সেই ‘পণবন্দিদের’ জীবন বিপন্ন করবে কিনা।
ইহুদ বারাকের মতে, যেভাবে হামলা চালিয়ে ‘পণবন্দিদের’ মুক্ত করে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তাতে ইসরাইলি হামলায়ই তাদের মৃত্যু হতে পারে। হামাস গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে, ইসরাইলি হামলায় তাদের হাতে থাকা এক নারী ও তার দুই শিশু নিহত হয়েছে।
সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বারাক আরো বলেন, আজ যদি হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তির বিনিময়েও ইসরাইলি ‘পণবন্দিদের’ মুক্ত করে আনা হয় তাহলেও আমরা দীর্ঘ মেয়াদে হামাসের সঙ্গে বা মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিদের সঙ্গে কী করা উচিত সে ফয়সালা করতে পারব। কিন্তু আমরা যদি এখনই পণবন্দিদের উদ্ধার করতে না পারি তাহলে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে তাদেরকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।#
পার্সটুডে/এমএমআই/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।