কেন গাজায় নতুন উদ্যমে গণহত্যা জোরদার করছে ইসরাইল!?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i131552-কেন_গাজায়_নতুন_উদ্যমে_গণহত্যা_জোরদার_করছে_ইসরাইল!
অবরুদ্ধ গাজায় আবারও দানবীয় গণহত্যা শুরু করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইসরাইলের কার্পেট-বোমা হামলায় গতকাল শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ৫০০ জন।
(last modified 2026-06-05T12:08:31+00:00 )
ডিসেম্বর ০২, ২০২৩ ১১:৪২ Asia/Dhaka

অবরুদ্ধ গাজায় আবারও দানবীয় গণহত্যা শুরু করেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। ইসরাইলের কার্পেট-বোমা হামলায় গতকাল শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ৫০০ জন।

এক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ-বিরতি চলার পর ইসরাইল আবারও মার্কিন সরকারের ইঙ্গিতে গাজায় ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করেছে। তেলআবিবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেনের সফরের মধ্যেই এই হামলা শুরু করে মানবতার শত্রু ও মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ ক্যান্সার দখলদার ও বর্ণবাদী ইসরাইল। 

ইসরাইলের এই হামলার উদ্দেশ্য হল গাজায় স্থল-অভিযানে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ব্যর্থতা সুস্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যর্থতাকে ঢাকা দেয়ার চেষ্টা এবং গাজাকে জনশূন্য করার অপচেষ্টা অব্যাহত রাখা। এ ছাড়াও  ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো যাতে তাদের হাতে বন্দি ইসরাইলি সেনাদেরও মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সে লক্ষ্যে দর কষাকষি করার জন্য চাপ বৃদ্ধি করাও ইসরাইলের নতুন গণহত্যা অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।

ইসরাইল মূলত আরও সুসংগঠিত হয়ে গাজায় হামলা চালানোর লক্ষ্যেই কয়েক দিনের জন্য যুদ্ধ বিরতি মেনে নিয়েছিল ও একদল ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়ে সীমিত পর্যায়ের বন্দি বিনিময় মেনে নিয়েছিল যাতে বিশ্বজনমতের চাপ ও প্রতিবাদী ইসরাইলিদের ঘরোয়া নিন্দার চাপও অনেকাংশে সামাল দেয়া যায়।

 ইসরাইল এমন ভাব তুলে ধরার চেষ্টা করছে যে স্বাধীনতাকামী হামাস অন্যায়ভাবে ইসরাইলি সেনাদের বন্দি করে রেখেছে। অথচ ইসরাইল প্রায় গোটা ফিলিস্তিনি জাতিকেই অন্যায়ভাবে বন্দি করে রেখেছে এবং দখলদারিত্বসহ সব ধরনের অপরাধযজ্ঞ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। 
গাজায় প্রায় ১৫ হাজার বেসামরিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করার পরও পশ্চিমা সরকারগুলো ইসরাইলকে গণহত্যার জন্য দায়ি বা দোষী বলে মনে করছে না।

আসলে ইসরাইলের সাম্প্রতিক ও গত ৭৫ বছর ধরে চলে আসা সব ধরনের অপরাধযজ্ঞের প্রধান শরিক হল মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলো এবং পরোক্ষভাবে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের সেবাদাস গোছের আরব ও কোনো কোনো অনারব মুসলিম সরকার। কারণ এইসব সরকার ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের মোকাবেলায় কার্যকর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরব ও মুসলিম সরকারগুলোর লজ্জাজনক ভূমিকার সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত হল সম্প্রতি একটি আরব দেশে জাতিসংঘের জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলনে ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি। ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনে এতসব অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তখন ইসরাইলি প্রেসিডেন্টকে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আসার সুযোগ দেয়া মানে তার সন্ত্রাসী, অপরাধী ও অমানবিক চরিত্রকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য বিষয় বলে মেনে নেয়া। এ ছাড়াও তুরস্কের মত কথিত ইসলাম ও মুসলিম দরদি সরকারও ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য লেনদেন অব্যাহত রেখেছে। ইসরাইলকে তেল সরবরাহ করাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে আসছে তথাকথিত মুসলিম দেশ আজারবাইজানের সরকার!  

তাই গাজায় ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ থামানোর একমাত্র উপায় হল প্রতিরোধ ও জিহাদের ময়দানে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের আরও বেশি সামরিক সহায়তা দেয়া এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে ইসরাইল ও তার সহযোগী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়িয়ে তোলা।   #

পার্সটুডে

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।