ইসরাইলের প্রতি পাশ্চাত্যের অন্ধ সমর্থনের পরিণতি সম্পর্কে গার্ডিয়ানের মন্তব্য ও হুঁশিয়ারি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i133268-ইসরাইলের_প্রতি_পাশ্চাত্যের_অন্ধ_সমর্থনের_পরিণতি_সম্পর্কে_গার্ডিয়ানের_মন্তব্য_ও_হুঁশিয়ারি
গাজায় গণহত্যা অভিযানে লিপ্ত ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলোর অন্ধ সমর্থনের কারণে এ যুদ্ধ নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এ জন্য তাদেরকে বিশেষ করে মার্কিন সরকারকে ক্রমেই উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
(last modified 2026-04-22T13:03:21+00:00 )
জানুয়ারি ১৩, ২০২৪ ১১:৩৪ Asia/Dhaka

গাজায় গণহত্যা অভিযানে লিপ্ত ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলোর অন্ধ সমর্থনের কারণে এ যুদ্ধ নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এ জন্য তাদেরকে বিশেষ করে মার্কিন সরকারকে ক্রমেই উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ইসরাইল উত্তেজনার আগুনে কেবলই ঘি ঢেলে তা তীব্রতর করছে এবং এর ফলে গোটা পাশ্চাত্যের পাশাপাশি ইসরাইলকেও চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।–এইসব মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ান। 

সংবাদপত্রটি এক বিশ্লেষণে আরও লিখেছে, গাজার যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকির যে পর্যায় তা এরি মধ্যে অতিক্রম করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন পশ্চিম এশিয়ায় তার উপস্থিতি কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করে এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক যত বেশি সম্ভব স্বাভাবিক করতে উৎসাহ দিচ্ছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক সপ্তা'র ব্যবধানে বেশিরভাগ আরব সরকার গাজার যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সরকার ও ইসরাইলের মিত্ররা এ অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে সক্ষম হয়নি।  আর এ-সব কিছুর জন্যই দায়ি হল গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে ইসরাইলকে অন্ধভাবে সমর্থন দেয়ার মার্কিন নীতি। এই অন্ধত্ব এতটা প্রকট হয়েছে যে তা পুনর্বিবেচনারও সুযোগ রাখেনি মার্কিন সরকার। ফলে এ নীতির মাশুল তথা ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে। 

ওই সংবাদপত্র আরও লিখেছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার হুমকি এখন বাস্তবেই ঘটতে যাচ্ছে বা নিকট ভবিষ্যতেই ঘটবে তা নয়- এই হুমকি এখনই কার্যকর হওয়া শুরু হয়ে গেছে। ইসরাইল ও হামাসের যুদ্ধ এখন লেবানন, ইয়েমেন, ইরান ও লোহিত সাগর এবং অন্যান্য অঞ্চলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরাইল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।  

গার্ডিয়ান লিখেছে, লোহিত সাগরকে নিরাপদ করা সম্ভব না হলে গোটা বিশ্বে বাণিজ্যের নানা ব্যয় ও বিমার খরচ বেড়ে যাবে ও পণ্যের বিশ্ব বাজারে দেখা দেবে যোগানের সংকট যা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আগেই কিছুটা নাজুক অবস্থায় উপনীত হয়েছে।  

গার্ডিয়ানের ওই বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি নানা গোষ্ঠী বা দলের পক্ষ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এইসব দেশে সৃষ্টি করতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়। বিভিন্ন প্রক্সি গ্রুপের উপস্থিতি ও (রাষ্ট্রীয়) শক্তির শূন্যতার ফলাফল আমরা দেখতে পাচ্ছি গাজা ও পশ্চিম তীরে। অথচ এর আগ পর্যন্ত  মার্কিন সরকার ও ইসরাইল এই আশায় বুক বেঁধেছিল যে আরব বিশ্বের সঙ্গে ইসরাইলের ঐক্য-প্রক্রিয়া ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া ইরানকে দমিয়ে ফেলবে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ও অধিকারের স্বপ্ন-সাধ নীরবে মৃত্যুর পথ বেছে নিবে!  

হামাস তার আকস্মিক হামলার মাধ্যমে প্রবল শক্তিমত্তার জানান দিল বলে ওই বিশ্লেষণে মন্তব্য করা হয়েছে।

গার্ডিয়ান আরও লিখেছে, এর পর থেকে ইসরাইলের কার্যক্রম আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পরিবর্তে কেবল উত্তেজনা জোরদারকারির ভূমিকা রাখছে। মার্কিন সরকার ও পাশ্চাত্যকে এখন এই বাস্তবতাটি বুঝতে হবে যে গাজার যুদ্ধ এখন আত্মরক্ষার পর্যায় অতিক্রম করেছে এবং এর ফলে ইসরাইলসহ সবাইকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে! কারণ এ যুদ্ধ খুব শিগগিরই এক বৈশ্বিক হুমকিতে পরিণত হতে পারে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃবৃন্দের অনেকেই ইসরাইলকে সংযত করতে চাপ বা প্রভাব খাটাতে মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইসরাইলি নৃশংসতা ও গণহত্যা অব্যাহত থাকলে গোটা পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।