ফিলিস্তিন ও আমেরিকার হোলোকাস্ট মেশিন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i135134-ফিলিস্তিন_ও_আমেরিকার_হোলোকাস্ট_মেশিন
পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে ‘হোলোকাস্ট'-এর ঘটনায় ইহুদিদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার গ্রহণযোগ্য ফলাফল হিসেবে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদী চক্রের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে। কথিত হোলোকাস্ট-এর ঘটনায় যদিও পশ্চিম ইউরোপে ইহুদিদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে কিন্তু একথা স্পষ্ট নয় যে, সে কারণে ফিলিস্তিনিদেরকে কেন মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মার্চ ০৩, ২০২৪ ১২:৪২ Asia/Dhaka
  • ফিলিস্তিন ও আমেরিকার হোলোকাস্ট মেশিন

পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে ‘হোলোকাস্ট'-এর ঘটনায় ইহুদিদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার গ্রহণযোগ্য ফলাফল হিসেবে অবৈধ ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদী চক্রের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গেছে। কথিত হোলোকাস্ট-এর ঘটনায় যদিও পশ্চিম ইউরোপে ইহুদিদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে কিন্তু একথা স্পষ্ট নয় যে, সে কারণে ফিলিস্তিনিদেরকে কেন মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকারের কথিত রক্ষকরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু অপরাধকে বড় করে তুলে ধরে ওই যুদ্ধের অন্যান্য অপরাধযজ্ঞকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বড় যে অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে তা হচ্ছে, জাপানের দু’টি শহরে আমেরিকার ভয়াবহ পরমাণু বোমা হামলা। এর পরিবর্তে তারা হোলোকাস্ট নামক একটি অজুহাত সৃষ্টি করেছে যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি জবরদখল করা যায়। কিন্তু তারা কখনও অন্য কোনো অপরাধ নিয়ে মাথা ঘামায়নি।

উদাহরণস্বরূপ, যখন কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয়, তখন আমেরিকার হস্তক্ষেপে কমপক্ষে আট লাখ সেনা ও ১৫ লাখ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। কিন্তু এত বড় গণহত্যার কথা মানবাধিকারের কথিত রক্ষকরা একবারও মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে না।

কোরীয় যুদ্ধ

কোরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মার্কিন সেনা কমান্ডার কুর্টিস লিমে বলেন: “আমরা সেখানে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার সকল শহরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছি....তিন বছর বা তার কিছু বেশি সময়ে কোরিয়ার ২০ শতাংশ মানুষ নিহত হয়।”

আমেরিকা ১৯৫০ এর দশকে ভিয়েতনামে আরেকবার তার গণহত্যা মেশিন চালু করে।  সেখানে তারা ২০ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ বেসামরিক নাগরিক ও ১০ লাখ সৈন্যকে কচুকাটা করে। ৩০ লাখ আদম সন্তানের এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারেও মানবাধিকারের কথিত রক্ষকরা নীরব।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ

২০০৩ সালে ইরাকও একটি মিথ্যা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন গণহত্যা মেশিনের শিকার হয়। ওই যুদ্ধে ইরাকের ১০ লাখের বেশি নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক আমেরিকার গণহত্যার শিকার হয়। কিন্তু এবারও মানবাধিকারের রক্ষক বলে দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো সমালোচনা ও নিন্দা জানানোর পরিবর্তে  নীরবতা অবলম্বন করে, কারণ, তাদের স্বার্থ নীরবতার মধ্যেই লুকায়িত ছিল। আমেরিকা এখানে আরো একবার গণহত্যায় মদদ দিচ্ছে।

ইরাক যুদ্ধ

বর্তমানে গাজা উপত্যকায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছে। সেখানে চলছে আরেকটি জঘন্য গণহত্যা। বিশ্ব সমাজ গাজা গণহত্যার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হলেও মানবাধিকারের রক্ষকরা বিস্ময়কর নীরবতা পালন করছে।

গাজায় ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ

মার্কিন সরকার যখন ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যা অভিযানে নিজের অংশগ্রহণের ফলে বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি হওয়া জনরোষ থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তখন গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত তিন তিনটি প্রস্তাব ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছে।

এ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রস্তাবটি আলজেরিয়া আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করেছিল। গত ২০ ফেব্রুয়ারি উত্থাপিত প্রস্তাবটির পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৩ দেশ ভোট দেওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে গেছে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, মার্কিন সরকার শুধু গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কাজে বাধা দিচ্ছে তাই নয় বরং তেল আবিবে সমরাস্ত্র ও অর্থের ঢল নামিয়ে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের জাতিগত শুদ্ধি অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে। #

পার্সটুডে/এমএমআই/এমএআর/৩