মুহাম্মদ দেইফ: আল আকসা তুফান অভিযানের প্রধান স্থপতি এবং কমান্ডারের শাহাদাত
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে হামাস আন্দোলনের সামরিক শাখার প্রধান এবং তার সহযোদ্ধাদের শাহাদাতে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের প্রতিরোধের প্রতি অভিনন্দন এবং সমবেদনা জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, কমান্ডার মুহাম্মদ আল দেইফ তার সারা জীবন দখলদার শত্রু ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে লড়াই ও সংগ্রাম করে কাটিয়েছেন, বিশেষ করে তিনি ছিলেন আল আকসা তুফান অভিযানের প্রধান স্থপতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রের প্রধান কমান্ডার।
পার্সটুডে অনুসারে, হামাস আন্দোলনের সামরিক শাখা ইজ্জেদ্দিন আল কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবায়দা বৃহস্পতিবার রাতে মুহাম্মদ দেইফের শাহাদাতের খবর দেয়ার পর এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে যে মুহাম্মদ দেইফ তার কিছু সঙ্গীর সঙ্গে গাজা যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, আল আকসা তুফান অভিযানের যুদ্ধে শহীদ কমান্ডার এবং নিহত সকল শহীদের রক্ত বিজয়ের দিকে পরিচালিত করেছিল এবং এক পর্যায়ে যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং বিপুল সংখ্যক বন্দি ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে বাধ্য করেছিল।
এদিকে শুক্রবার রাতে ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক তথ্য অফিস ঘোষণা করেছে যে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চুক্তির আওতায় বন্দি বিনিময়ের চতুর্থ ধাপে ইসরাইলি সরকার ১৮৩ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।
অবশেষে ইহুদিদের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ এবং গাজা যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করার পর গত ১৯ জানুয়ারি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন শুরু হয়। ইসরাইলি সরকারের উগ্রাবাদী মন্ত্রীরা অলিক স্বপ্ন নিয়ে হামাস আন্দোলনকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্যে গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করেছিল । কিন্তু তাদের সেই ইচ্ছা অর্জিত হয় নি।
যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরাইলি সরকারের ব্যর্থতা এবং যুদ্ধে পরাজয়ের বিষয়ে তেল আবিব কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক স্বীকারোক্তি এমন সময় এসেছে যখন দখলদার ইসরাইলের সামরিক বিশ্লেষক ইয়োসি ইয়েহোশুয়া শুক্রবার সন্ধ্যায় জোর দিয়ে বলেছেন যে গাজায় হামাসের শাসনের কোনো বাস্তব বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, সামরিক সংঘাত সত্ত্বেও হামাস এখনো এ অঞ্চলে একটি প্রভাবশালী শক্তি এবং তারা সামরিকভাবে ধ্বংস হয় নি।
অন্যদিকে গাজা যুদ্ধের পর ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ার খবর যখন প্রকাশিত হচ্ছে তখন মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর গণহত্যার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিযোগে যোগদানের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জমা দিয়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে যেখানে বলা হয়েছে যে দখলদার সরকার গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।
নিকারাগুয়া, কিউবা, আয়ারল্যান্ড, কলম্বিয়া, লিবিয়া, মেক্সিকো, ফিলিস্তিন, স্পেন এবং তুরস্ক সহ বেশ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে অভিযোগে যোগ দিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।