পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সহিংসতা বৃদ্ধি: জাতিসংঘের তথ্য প্রকাশ
-
পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের আক্রমণের ওপর বিস্ময়কর পরিসংখ্যান
২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। তাদের আক্রমণে ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, ফিলিস্তিনিরা শহীদ হয়েছে এবং তাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে।
ইরনার এর বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কের দপ্তর জানিয়েছে, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের অক্টোবরে কমপক্ষে ২৬৪টি আক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে যা ২০০৬ সালের পর থেকে একমাসে সর্বোচ্চ। গড়ে দিনে ৮ বার হামলার ফলে ব্যাপক সংখ্যক ফিলিস্তিনি হতাহত এবং তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ১,৩৯৫টি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কমপক্ষে ১,০১০ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র সাইফ মাগাঙ্গো সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েলি শাসন নীতিমালাগুলোই এমন জবরদস্তিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক দেশত্যাগ করতে বাধ্য করছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এছাড়াও, মার্কিন কংগ্রেসের ১০৪ জন সদস্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে উম্মুল খায়ের গ্রামে বাড়িঘর ভাঙা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ইসরায়েলের পদক্ষেপকে অবৈধ এবং ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছেন। এই প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের নীতি অব্যাহত থাকলে ইহুদিবাদী সরকার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এবং বিশ্বব্যাপী ক্ষোভের মুখোমুখি হবে।
২০০৭ সাল থেকে উম্মুল খায়ের গ্রামে ১০০টিরও বেশি আবাসিক এবং পরিষেবা ভবন ধ্বংসে ২০টিরও বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, যার মধ্যে শেষটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে সহিংসতা এবং ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটি একটি গুরুতর হুমকি।#
পার্সটুডে/জিএআর/৮