বিশ্লেষণ: কেন মার্কিন তরুণ প্রজন্ম আর ইসরায়েলের সমর্থক নয়?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i154074-বিশ্লেষণ_কেন_মার্কিন_তরুণ_প্রজন্ম_আর_ইসরায়েলের_সমর্থক_নয়
পার্সটুডে: ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্কবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব দ্রুত বাড়ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১৬, ২০২৫ ০৬:৫৫ Asia/Dhaka
  • মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি বাড়ছে
    মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি বাড়ছে

পার্সটুডে: ইসরায়েল-মার্কিন সম্পর্কবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব দ্রুত বাড়ছে।

গতকাল (শনিবার) ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিয়ত আহরোনোথ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ 'কোবি বার্দা' লিখেছেন, মার্কিন যুবকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি অবিশ্বাস ও বিরোধিতা কমেনি, বরং তা একটি গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই রাষ্ট্রের অবস্থানকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থএদর সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এই প্রজন্মের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে এবং এটি ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

কোবি বার্দা আরও লিখেছেন, এই পরিবর্তনকে আর 'গাজা যুদ্ধের আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া' বলে উপেক্ষা করা যাবে না; কারণ লক্ষণগুলো দেখাচ্ছে যে আমেরিকার সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাব্যবস্থায় বহু বছর ধরে এই পরিবর্তনের ভিত তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে লেখক একটি উদাহরণের উল্লেখ করেছেন যা অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল: নিকি হ্যালির সন্তান 'নালিন হ্যালি'র টুইট। নিকি হ্যালি জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত এবং ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক। তিনি এই টুইটে ইসরাইলিদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন: "আপনারা যদি আমাদের সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতে হবে।"

 বার্দার মতে, ইসরায়েলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্রদের একজনের সন্তান যখন আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত স্লোগানের ভাষাতেই কথা বলে, তখন বোঝা যায়— “তরুণদের মধ্যে এই স্রোতটি বহুদিন ধরে হেঁটে আসা এক পরিচয়–রাজনীতি ও সামাজিক ন্যায়ের প্রক্রিয়ার ফল, এটি গাজা যুদ্ধের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়।”

তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে আমেরিকার একাডেমিক বামপন্থী গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে ওঠা এক ধরনের মতাদর্শিক জোট থেকে, যা নতুন এক রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক কথোপকথন তৈরি করেছে।

এই ইহুদিবাদী লেখক সতর্ক করে বলেন, এ প্রবণতা কেবল বামপন্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবর্তন ও অর্থায়নের ধারা গড়ে উঠেছে, তার প্রভাবে আমেরিকার ডানপন্থী গোষ্ঠীর একাংশও ইসরায়েল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

নিবন্ধের শেষাংশে বলা হয়, ইসরায়েলের শক্তির সমীকরণ আজ আর কেবল সামরিক বা রাজনৈতিক ময়দানে নির্ধারিত হয় না। আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের মন ও চেতনার ওপর প্রভাব বিস্তার এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান নির্ধারণের প্রধান উপাদানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এই ধারা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এমন এক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন—এমনকি অসম্ভব হয়ে উঠবে।#

পার্সটুডে/এমএআর/১৬