গাজা যুদ্ধের ভার বহন করতে গিয়ে গভীর সংকটে ইসরায়েল
-
গাজা যুদ্ধের ভার বহন করতে গিয়ে গভীর সংকটে ইসরায়েল
পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরায়েলের একটি গবেষণা কেন্দ্র এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, “গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রভাব সামরিক ক্ষেত্রের বাইরেও আর্থ-সামাজিক সংকটের ওপর পড়েছে এবং ইসরায়েলি শাসন কাঠামো ও সরকারি বাজেটের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।”
পার্সটুডে জানিয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের তাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় জানিয়েছে- সেনাবাহিনীর পুনর্বাসন বিভাগের পরিসেবা এবং পেনশন ব্যবহারকারী ইসরায়েলি সৈন্যের সংখ্যা এক লাখ ৩২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এই সংখ্যাটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১৬ ব্যক্তি এতে যুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বিশেষকরে শারীরিক ও মানসিক আঘাতের মাত্রাকে প্রতিফলিত করে।
গবেষণা অনুসারে, দখলদার ইসরায়েলে ২০২৪ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, এই ব্যয় প্রায় ২৬ বিলিয়ন শেকেলে (প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধের মাত্র এক বছর আগে, এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১.৭ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই ব্যাপক বৃদ্ধির মূল কারণ হলো সরকারের রিজার্ভ সদস্যদের ব্যাপক পেনশন এবং সুবিধা প্রদান।
যুদ্ধ ইসরায়েলি অর্থনীতি, সামাজিক কাঠামো এবং কল্যাণ ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে
তাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসির মতে, যুদ্ধের বোঝা কেবল ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকেই নয় বরং নানা অঙ্গনকে বহন করতে হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হাজার হাজার ইহুদিবাদী শরণার্থী সরকারের খরচে হোটেল এবং অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্রে মাসের পর মাস অবস্থান করছে। এছাড়াও, শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজারে পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে এই সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। এই বৃদ্ধি চিকিৎসা, মানসিক রোগ এবং সহায়তা পরিষেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। তাউব সেন্টারের গবেষণায় মানব সম্পদ সংকটও প্রকাশ পেয়েছে। বলা হচ্ছে, যুদ্ধের মানসিক ও সামাজিক পরিণতি মোকাবেলা করার জন্য ইসরায়েলি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কমপক্ষে এক হাজার তিনশ' জন অতিরিক্ত সমাজকর্মীর প্রয়োজন।#
পার্সটুডে/এসএ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন