যুক্তরাষ্ট্র চায় না ইরান প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের আদর্শ হয়ে উঠুক: হিজবুল্লাহ
-
শেখ নাঈম কাসেম
পার্সটুডে- ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বক্তব্যে লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইরান প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের একটি আদর্শ হয়ে উঠুক।
ইরনার বরাতে পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়- লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম তার বক্তব্যে বলেন, ইসলামি বিপ্লব নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন স্তরে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং মুক্তিকামী আন্দোলনগুলোকে সমর্থন দিয়েছে। ইসলামি বিপ্লব ইসলামি ঐতিহ্যের ভিত্তিতে এবং দমন-পীড়ন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে “না পূর্ব, না পশ্চিম”—এই নীতি ঘোষণা করেছিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে, ইরান প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের আদর্শ হয়ে উঠুক; বরং তারা চায় দেশটি তাদের স্বার্থ ও আধিপত্যবাদের অনুসারী হয়ে থাকুক। লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর চিন্তা ও পথনির্দেশনা থেকে অনুপ্রাণিত, তবে আমরা আমাদের ভূমি ও জনগণের জন্যই লড়াই করছি।
লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব আরও বলেন, ইসরায়েলি ও মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের ভূমি ও অধিকার পুনরুদ্ধারে লেবাননের জনগণকে সহায়তা করার জন্য ইরানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
শেখ নাঈম কাসেম বলেন, লেবানন সরকার ও ইসরায়েলি শাসনের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার ফলাফল ‘অকার্যকর, অপমানজনক ও লজ্জাজনক’। তিনি বলেন, লেবাননের জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এটাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের ঘোষণাটি মূলত লেবাননকে তথাকথিত “বৃহৎ ইসরায়েল” প্রকল্পের কাছে আত্মসমর্পণের ভিত্তি তৈরি করছে। যেকোনো চুক্তির মূল লক্ষ্য যদি প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করা হয়, তবে তা লেবাননের শক্তি ধ্বংসের সমান এবং প্রতিরোধী জাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি ও গণহত্যার ঝুঁকি তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘোষণা লেবাননকে ধ্বংস ও অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা, যাতে ইসরায়েল যুদ্ধক্ষেত্রে যা অর্জন করতে পারেনি তা রাজনৈতিকভাবে অর্জন করতে পারে। যারা সম্মান, মর্যাদা এবং শহীদ, আহত ও বন্দিদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখে তাদের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের এই পরিকল্পনা লেবাননের এক অংশকে দাসে পরিণত করা এবং অন্য অংশকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর রোডম্যাপ।হিজবুল্লাহর মহাসচিব আরও বলেন, আমরা কখনোই প্রতিশ্রুতি দিইনি যে, আমরা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করব না। যতক্ষণ আগ্রাসন চলবে, আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার মোকাবিলা করব। যতক্ষণ আমাদের গ্রামগুলো নিরাপদ নয়, বোমাবর্ষণ ও ধ্বংস চলতে থাকবে এবং মানুষ নিহত হবে, ততক্ষণ ইসরায়েলি বসতিগুলোও নিরাপদ থাকবে না; তারা আমাদের সাহস ও দৃঢ়তার সাক্ষী হবে।#
পার্সটুডে/এস এ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন