ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন কিনছে আমিরাত
-
ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোন
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ড্রোন হামলার বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত ইউক্রেনের তৈরি ৭,০০০-এর বেশি ইন্টারসেপ্টর (প্রতিরোধকারী) ড্রোন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্স টুডে জানায়, আমিরাত একাই ইউক্রেনের TAF Industries-এর কাছে ৫,০০০টি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন কেনার আবেদন করেছে। কাতার ২,০০০টি ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে এবং কুয়েতও এসব ড্রোন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাত ইতোমধ্যেই প্রথম চালানের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন গ্রহণ করেছে।
২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সৌদি আরব, আমিরাত ও কাতার সফর করেন। এ সময় তিন দেশের সঙ্গে ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসব চুক্তিতে শুধু ইন্টারসেপ্টর ড্রোন রপ্তানি নয়, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিরাত ইউক্রেনীয় প্রতিষ্ঠান Skyfall-এর তৈরি এমন ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহারের একচেটিয়া অধিকারও পেয়েছে, যা ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করার জন্য তৈরি বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ড্রোন কেনার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো ব্যয়। সাম্প্রতিক সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিপুল সংখ্যক তুলনামূলক কম দামের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, যেখানে একটি ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের খরচ প্রায় ১০ হাজার ডলার। এই বিশাল ব্যয়ের পার্থক্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে নতুন সমাধানের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করেছে।
আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইউক্রেনের বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। গত চার বছরে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জেলেনস্কির দাবি, এই ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার তুলনা নেই এবং দেশটি ইতোমধ্যে আমিরাতসহ পাঁচটি দেশে ২২৮ জন ড্রোন প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও THAAD-এর মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বৈচিত্র্য আনতে চায়।
তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনকে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় করা সহজ নয়। এসব ড্রোন কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য নিম্ন-উচ্চতার রাডার, শব্দ শনাক্তকারী সেন্সর এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বিত নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। এছাড়া দক্ষ অপারেটরের ঘাটতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনের শেষাংশে দাবি করা হয়েছে, আমিরাতের এই উদ্যোগ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে একই সঙ্গে এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে নতুন ড্রোন কৌশল ও প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে, যা ভবিষ্যতেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।#
পার্সটুডে/ এমবিএ/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।