গণমাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের পরিকল্পিত অপরাধযজ্ঞ উন্মোচন
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i162938-গণমাধ্যমে_গাজা_ও_পশ্চিম_তীরে_ইসরায়েলের_পরিকল্পিত_অপরাধযজ্ঞ_উন্মোচন
পার্সটুডে- ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার মধ্যকার গভীর ব্যবধানের দিকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বিতাড়নের বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের প্রকাশ্য পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরেছে।
(last modified 2026-09-09T08:47:34+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬ ১০:৩৬ Asia/Dhaka
  • • ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির
    • ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির

পার্সটুডে- ইসরায়েলি সরকারের কর্মকাণ্ড এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার মধ্যকার গভীর ব্যবধানের দিকে ইঙ্গিত করে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বিতাড়নের বিষয়ে ইসরায়েলি সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের প্রকাশ্য পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরেছে।

ইসনা-এর বরাতে পার্স টুডে জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজা থেকে সব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেওয়ার জাতিগত নির্মূল পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি পুরুষদের নিয়ে একটি অপমানজনক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে ইসরায়েলের যুদ্ধমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কারের জন্য “যেকোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে” তারা প্রস্তুত।

গার্ডিয়ান জোর দিয়ে বলেছে, এসব ব্যক্তি কোনো প্রান্তিক বা অপ্রভাবশালী কণ্ঠস্বর নন; বরং তারা এমন মন্ত্রী, যাদের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। তারা অমানবিক ভূগর্ভস্থ কারাগার পুনরায় চালু করা, ফিলিস্তিনিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়া, পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বড় বসতি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুমোদন এবং অবৈধ বসতিগুলোর কৃষিজমি বৈধ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র আরও উল্লেখ করেছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার ব্যবধান এতটাই বিস্তৃত হয়েছে যে তা “বাস্তবতাকেই উপেক্ষা করছে”। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাপুরুষতা ও নিষ্ক্রিয়তার মাধ্যমে একের পর এক ‘রেড লাইন’ লঙ্ঘিত হতে দেখছে।

ইসরায়েলি দখলদারিত্বের নীতির কারণে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতিও ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে। পানিসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনকে গুরুতর সংকটের মুখে ফেলেছে।

পশ্চিম তীরে দখলদারদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে আল-জাজিরার প্রতিবেদন

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরকে তাদের উগ্র দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন এবং যেকোনো ধরনের দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের অবসান ঘটানোর একটি “পরীক্ষাগারে” পরিণত করেছে।

গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলো হলো:

• বসতি সম্প্রসারণ:

বর্তমান মন্ত্রিসভার মেয়াদে- ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত—১০৪টি নতুন বসতি অনুমোদন করা হয়েছে। কৃষি ও পশুপালনকেন্দ্রিক বসতিগুলোও প্রায় ১১ লাখ দুনাম জমি দখল করেছে, যা পশ্চিম তীরের প্রায় ১৮ শতাংশ। এর মধ্যে নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ৭ লাখ ৫০ হাজার দুনাম জমি দখল করা হয়েছে। বসতি স্থাপনকারীদের সংখ্যা বেড়ে ৯ লাখেরও বেশি হয়েছে।

• গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ:

ইসরায়েল পশ্চিম তীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পানিসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শত শত চেকপয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে অসংখ্য অংশে বিভক্ত করা হয়েছে।

• সংযুক্তিকরণ বা আনেক্সেশন এগিয়ে নেওয়া:

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট কনেসেট ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পক্ষে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। একই বছরের অক্টোবরে পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার একটি বিল প্রথম পাঠে অনুমোদিত

• বসতি স্থাপনকারীদের সংগঠিত সহিংসতা:

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় OCHA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বসতি স্থাপনকারীরা ২৮০টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ১,৮২৮টি হামলা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব হামলার কারণে ১২১টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

• জেরুজালেম ও আল-আকসা মসজিদে তৎপরতা বৃদ্ধি:

ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন আরোপ করেছে এবং মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে। ২০২৫ সালে আল-আকসা মসজিদে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও অনুপ্রবেশের সংখ্যা ৭৩ হাজারেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমে ৩৩ হাজার আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।

• প্রতিরোধ দমন ও বাস্তুচ্যুতি:

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। এসব অভিযানে জেনিন ও নূর শামস শিবিরের প্রায় অর্ধেক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।