সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক: পরিণতি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিল বিরোধীদল
-
তুর্কি পিপলস রিপাবলিকান পার্টির প্রধান কামাল কিলিচদার ওগলু
তুরস্ক সরকারের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতির প্রতি সেদেশের বিরোধীদলগুলোর সমালোচনা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্কের পিপলস রিপাবলিকান পার্টির প্রধান কামাল কিলিচদার ওগলু সৌদি আরবের বর্তমান রাজতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি রিয়াদের সঙ্গে আঙ্কারার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পরিণতির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সৌদি আরবের কর্মকাণ্ড ভালো ফল বয়ে আনে নি। তুরস্কের বিরোধীদলের এই নেতা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরোধীদের চাকরিচ্যুত করার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এরদোগান একনায়ক শাসন চাপিয়ে দিয়ে এদেশকে সৌদি আরবে পরিণত করার চেষ্টা করছে।
তুরস্ক ও সৌদি সরকারসহ আরো কয়েকটি আরব দেশ এবং পাশ্চাত্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দায়েশসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও যুদ্ধের আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু ইস্যুতে এই দেশগুলোর দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ও ভুল সিদ্ধান্ত তুরস্কের প্রতিবেশী দেশগুলোর সংকটকে আরো তীব্রতর করেছে। অথচ তুরস্কের বর্তমান সরকার ২০০৩ সালে ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এরদোগান সরকারের সাবেক ওসমানি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন মারাত্মক ভুল চিন্তা। তাদের ওই ভুল চিন্তা প্রতিবেশীদের সঙ্গে দূরত্ব তো কমিয়ে আনেই নি বরং এ অঞ্চলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেরও ক্ষতি করেছে। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলো তুরস্ককে সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এখনো টিকে আছেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা এখনো প্রেসিডেন্ট আসাদের রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তুরস্ক সরকার শুধু সিরিয়ায় গোলযোগ বাধিয়েই থেমে নেই; ইরাকেও অবৈধভাবে সেনা পাঠিয়ে প্রতিবেশী এ দেশটির সঙ্গে উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছে।
প্রকৃতপক্ষে, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে তার অবৈধ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তুরস্কের বর্তমান সরকারকে ব্যবহার করছে। তুরস্ক সৌদি নীতি বাস্তবায়ন করায় বিনিময়ে সৌদি আরব তুরস্ককে বিপুল অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে। কিন্তু তারপরও গত কয়েক বছরে তুরস্ক সরকার অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে পারে নি। অর্থনৈতিক বিষয়টি ছাড়াও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তুরস্ক আগামীতে অভ্যন্তরীণভাবে আরো সংকটে পড়তে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। উদাহরণস্বরূপ- তুরস্কে সৌদি আরবের প্রচারিত ওয়াহাবি মতবাদ ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে যা ওই দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ কারণে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বহু দেশ ওয়াহাবি মতবাদ প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সম্প্রতি সেদেশের বিভিন্ন স্থানে যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে সৌদিপন্থী ওয়াহাবি সালাফিদের হাত ছিল। এ কারণে তাজিকিস্তানসহ মধ্য এশিয়ার আরো চারটি মুসলিম দেশ ওয়াহাবিদের তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় তুরস্কের বিরোধীদলের নেতা সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিণতির ব্যাপারে যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। #
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২২