জাতিসংঘের নীরবতার সুযোগে সৌদি অপরাধযজ্ঞ চলছে: ইয়েমেনের প্রতিবাদ
ইয়েমেনের ন্যাশনাল স্যালভেশন সরকার সেদেশের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের মানবতা বিরোধী অপরাধযজ্ঞ রোধে পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের স্থল, আকাশ ও নৌপথে অবরোধ আরোপের তীব্র সমালোচনা করে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সব দিক থেকে ইয়েমেনকে অবরুদ্ধ করে রেখে সৌদি আরব গত ২০ মাস ধরে মুসলিম এ দেশটির ওপর ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমাজ সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে এবং রিয়াদের এ অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা টু শব্দটিও করছে না। তবে ইয়েমেনে সৌদি আরবের অপরাধযজ্ঞের বিরুদ্ধে বিশ্বের সাধারণ মানুষ সোচ্চার হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ করে জাতিসংঘ এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে ন।
বিশ্বের অন্যান্য এলাকায় সংকট সমাধানে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল খুবই দুর্বল। তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, বিশ্বে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বশীল জাতিসংঘ ইয়েমেনের জনগণকে রক্ষার পরিবর্তে সৌদি লবি ও ডলারে প্রভাবিত হয়ে অবস্থান নেবে। ইয়েমেনে শিশু হত্যায় জড়িত দেশগুলোর তালিকায় সৌদি আরবের নাম ঘোষণার পর জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছিলেন, আরো নিশ্চিত হতে ও তদন্তের স্বার্থে শিশু হত্যাকারীর ওই তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের আগ্রাসন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে জাতিসংঘের নীরবতা এই সংস্থার নীতিমালার লঙ্ঘন। ফলে সৌদি আগ্রাসনে জাতিসংঘও শামিল বলে বিবেচিত হবে। সৌদি আরব অন্য আরব মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ইয়েমেনের ক্ষমতায় বসানোর জন্য গত বছরের মার্চ থেকে সেদেশে ব্যাপক আগ্রাসন শুরু করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে অজুহাতেই সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা চালাক না কেন এর ফলে কেবল দরিদ্র এ দেশটির জনগণই হতাহত হচ্ছে এবং সব কিছু বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সৌদি আগ্রাসনে ইয়েমেনের নারী শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়া ছাড়াও স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় স্থাপনাসহ সব অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় কথা ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরব ও তার মিত্রদের যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন তাদের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধ।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত বহু মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও এ দেশটি আবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদের সদস্য! এ থেকেই বোঝা যায়, এ পরিষদকে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে এবং মানবাধিকারের সজ্ঞাও বিকৃত করা হয়েছে।
উল্লেখ করা যায়, আরবি ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক আশ্ শারকুল আওসাত এ কথা
ফাঁস করে দিয়েছে যে, জেনেভায় মানবাধিকার কমিশনে সৌদি প্রতিনিধি ফয়সাল বিন হাসান তোরাদ সৌদি সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেয়ার জন্য এই কমিশনকে ১০লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছেন। তবে সৌদি আরব জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদকে অর্থ সহায়তা দিলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা সৌদি সরকারের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখছে। কিছুদিন আগে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, সৌদি আরব গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যাপক অপরাধযজ্ঞ চালিয়েছে।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২৬