ঘাতক ইসরাইলি সেনার প্রহসনমূলক বিচার চলছে: ফিলিস্তিন
-
আদালতে ঘাতক ইসরাইলি সেনা ইলোরকে জড়িয়ে ধরে আছে তার ঘনিষ্ঠজনেরা। ফিলিস্তিন বলছে: এসব ফুটেজ ও ছবি প্রচার করে ঘাতকের পক্ষে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চলছে
একজন আহত ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একজন ইহুদিবাদী সেনার বিচারকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ওই সেনাকে ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানানোর পর ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হলো।
বুধবার ইসরাইলের একটি আদালত ইহুদিবাদী সেনা সার্জেন্ট ইলোর আজারিয়াকে একজন আহত ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে। গত বছর পশ্চিম তীরের আল-খলিল (হেবরন) শহরে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান ফিলিস্তিনি যুবক আবেদ আল-ফাতাহ আশ-শরিফ। এ অবস্থায় ভূমিতে ধরাশায়ী শরিফের মাথায় গুলি করে তাকে হত্যা করে সার্জেন্ট ইলোর।
এই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক ফিলিস্তিনি। একটি ইসরাইলি মানবাধিকার গোষ্ঠী ভিডিওটি প্রকাশ করার পর ফুটেজটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ইসরাইলি আদালত বুধবার এক রুলিংয়ে বলেছে, আগামী রোববার সার্জেন্ট ইলোরের শাস্তি ঘোষণা করা হবে। ইসরাইলি আইনে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে কোনো কোনো গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।
আদালতের এ রুলিংয়ের পরপরই ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ বিচারকে ‘প্রহসনমূলক বিচার’ বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লোক দেখানো এ বিচারের মাধ্যমে ঘাতক সেনার প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে দখলদার ইসরাইল। বহু ইসরাইলি সংগঠন ও উগ্র বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠী ঘাতক ইহুদিবাদী সেনাকে মুক্ত করার জন্য প্রচারাভিযান চালাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, উগ্র ইসরাইলি রাবাইরা ফিলিস্তিনি যুবকের হত্যাকাণ্ডকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৈধ বলেও রায় দিচ্ছেন। এসব থেকে বোঝা যায়, ঘাতক সেনাকে শেষ পর্যন্ত বেকসুর খালাসে দেয়া হবে এবং এই বিচার সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/৫