ইয়েমেনের স্বাধীনতা রক্ষায় জিহাদে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা আনসারুল্লাহর
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i32023-ইয়েমেনের_স্বাধীনতা_রক্ষায়_জিহাদে_মানুষের_সম্পৃক্ততা_বাড়বে_বলে_আশা_আনসারুল্লাহর
ইয়েমেনের প্রতিরোধ সংগঠন আনসারুল্লাহ'র মহাসচিব আব্দুল মালিক বদরউদ্দিন আল হুথি সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলোর আগ্রাসন মোকাবেলায় সেদেশের জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে একইসঙ্গে জিহাদে গণমানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
জানুয়ারি ২৯, ২০১৭ ১৭:৪১ Asia/Dhaka
  • আব্দুল মালিক বদরউদ্দিন আল হুথি
    আব্দুল মালিক বদরউদ্দিন আল হুথি

ইয়েমেনের প্রতিরোধ সংগঠন আনসারুল্লাহ'র মহাসচিব আব্দুল মালিক বদরউদ্দিন আল হুথি সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলোর আগ্রাসন মোকাবেলায় সেদেশের জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে একইসঙ্গে জিহাদে গণমানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।

আব্দুল মালিক বদরউদ্দিন আল হুথি ইয়েমেনিদের উদ্দেশে বলেছেন, "আপনারা আগ্রাসীদের মোকাবেলায় চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে আরও ব্যাপকভাবে জিহাদে অংশ নিন"। সৌদি আরব দুই সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরাজিত করতে সক্ষম হবে বলে যুদ্ধ শুরুর আগে যে দাবি করেছিল তার অসাড়তা প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ইয়েমেনের জনগণের প্রতিরোধ সংগ্রাম আগ্রাসীদেরকে তাদের অশুভ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। আর এর ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন দল ও সংগঠনের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনে হামলা শুরু করেছে সৌদি আরব। তারা আশা করেছিল, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আনসারুল্লাহর প্রতিরোধ সংগ্রামীদের পরাজিত করতে পারবে এবং পলাতক সাবেক প্রেসিডেন্টকে আবারও ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। কিন্তু তাদের আশা পূরণ হয়নি এবং এ পর্যন্ত ২৩ মাস অতিবাহিত হলেও ইয়েমেনিরা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং পাল্টা আঘাতও হানছে। আসলে সৌদি শাসক গোষ্ঠী আনসারুল্লাহর প্রতিরোধ শক্তি এবং দেশের অভ্যন্তরে আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আনসারুল্লাহ এখন ইয়েমেনের জনগণের প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। গত ২৩ মাসে সৌদি হামলার মোকাবেলায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে এবং ইয়েমেনের ভেতরে তৎপর অনুচরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে আনসারুল্লাহর প্রতিরোধ যোদ্ধারা।

 সৌদি আরব সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দেশ। কাজেই এটা স্পষ্ট যে, ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের অসম লড়াই চলছে। কিন্তু সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি কখনোই ঈমানি শক্তির সঙ্গে তুলনীয় নয়। আর ঈমানি শক্তিই রয়েছে আনসারুল্লাহর। এই ঈমানি শক্তিই ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকেও আনসারুল্লাহর কাছাকাছি টেনে এনে দিয়েছে। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর আহ্বানে দেশটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ দেশরক্ষায় এগিয়ে এসেছে। তারা যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে তেমনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আল্লাহর রাস্তায় জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে।

ইয়েমেনের জনগণ এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যেখানে সৌদি আরব এবং পাশ্চাত্যের হস্তক্ষেপ থাকবে না। সৌদি আরব ও আমেরিকা যখনি বুঝতে পারলো যে, ইয়েমেনের জনগণের মাঝে নিজেদের কোনো স্থান নেই এবং ভবিষ্যতেও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না তখনি তারা দেশটির জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। তারা চায় আব্দরাব্বু মানসুর হাদিকে আবারও ক্ষমতায় বসিয়ে অতীতের মতো ইয়েমেনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে। আর তা যদি কোনোভাবেই সম্ভব না হয় তাহলে ইয়েমেনের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে দীর্ঘদিনের জন্য পঙ্গু দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো।#

পার্সটুডে/সোহেল আহম্মেদ/২৯