বাবুল মান্দাব প্রণালিতে মার্কিন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনায় ইয়েমেনের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i33812-বাবুল_মান্দাব_প্রণালিতে_মার্কিন_ঘাঁটি_প্রতিষ্ঠার_পরিকল্পনায়_ইয়েমেনের_প্রতিক্রিয়া
ইয়েমেনের মাইয়্যুন বা পেরিম দ্বীপে আমেরিকা ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। আমেরিকার সাথে এ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে মিশর এবং আরব আমিরাতের। এ সমঝোতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ইয়েমেন সংসদ একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ বাবুল মান্দাব প্রণালির কাছে তাজ প্রদেশের অন্তর্গত পেরিম দ্বীপটি ইয়েমেনের নিজস্ব ভূখণ্ড।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ০২, ২০১৭ ১৪:১৭ Asia/Dhaka

ইয়েমেনের মাইয়্যুন বা পেরিম দ্বীপে আমেরিকা ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে। আমেরিকার সাথে এ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে মিশর এবং আরব আমিরাতের। এ সমঝোতার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ইয়েমেন সংসদ একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ বাবুল মান্দাব প্রণালির কাছে তাজ প্রদেশের অন্তর্গত পেরিম দ্বীপটি ইয়েমেনের নিজস্ব ভূখণ্ড।

এর আগেও আমেরিকা পেরিম দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মিশর এবং আরব আমিরাতের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছিল। সে সময় চীন কড়া ভাষায় ওই চুক্তির নিন্দা জানিয়েছিল।

আমেরিকা এখানে ঘাঁটি নির্মাণ করলে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দেখা দেবে। যার ফলে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি ও নিরাপত্তা আগের চেয়ে আরও বেশি বিঘ্নিত হবে। তাছাড়া সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলও বিঘ্নিত হবে।

বাবুল মান্দাবের পেরিম দ্বীপ

অবস্থানগত দিক থেকেও বাবুল মান্দাব প্রণালি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ইরিত্রিয়া, জিবুতি এবং ইয়েমেনের মাঝখানে এই প্রণালির অবস্থান। ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগরের সঙ্গেও যোগাযোগের মাধ্যম এই বাবুল মান্দাব প্রণালি পাশাপাশি ভারত সাগরকে যুক্ত করেছে বাবুল মান্দাব। আবার দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়াকেও ইউরোপ এবং পূর্ব আফ্রিকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমও এই প্রণালি। এই কৌশলগত অবস্থানের কারণেই আধিপত্যবাদী শক্তিগুলোর দৃষ্টি পড়েছে এই প্রণালির ওপর। বিশ্বব্যাপী সৌদি তেল রপ্তানির অন্যতম মাধ্যমও এই প্রণালি। বাবুল মান্দাব দিয়ে দৈনিক চল্লিশ লাখ টন তেল সুয়েজ খালের দিকে যায়। সেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দিকে চলে যায় সেই তেল। সৌদিআরবের মোটামুটি সকল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডই এই প্রণালি দিয়ে সম্পাদিত হয়। সেজন্য সৌদিসরকার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, ইয়েমেনে যদি আনসারুল্লাহ ক্ষমতায় চলে আসে তাহলে বাবুল মান্দাবের ওপর আনসারুল্লা একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বসতে পারে।

ইয়েমেনে আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে আরব আমিরাতও যোগ দিয়েছিল। তাদের টার্গেট ছিল এডেন উপসাগরের পেরিম দ্বীপ এবং সোকোত্রা দ্বীপ পরিপূর্ণভাবে দখলে নেয়া। এই লক্ষ্যে আমিরাত পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মানসুর হাদির কাছ থেকে এই দ্বীপ দুটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়। এই চুক্তিটি ইয়েমেনি জাতির কাছে দেশ বিরোধী চুক্তি হিসেবে পরিচিত। এইসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য হস্তক্ষেপের সুবিধার্থে আমেরিকা এখন ইয়েমেনের বিনা অনুমতিতে বাবুল মান্দাব প্রণালির কাছে ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটা যে একটি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন সে বিষয়টি উপেক্ষা করছে আমেরিকা। এ কারণেই ইয়েমেনের পাশাপাশি চীনও মার্কিন ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছে।*

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২