সোমালিয়ার শরণার্থীবাহী নৌকায় সৌদি বোমাবর্ষণ যুদ্ধাপরাধ: এইচআরডাব্লিউ
-
ইয়েমেনের হুদাইদা বন্দর (ফাইল ছবি)
ইয়েমেনের উপকূলে সোমালিয়ার শরণার্থীবাহী একটি নৌকায় সৌদি বিমান হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বা এইচআরডাব্লিউ।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, নৌকাটিতে সৌদি বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। গত ১৬ মার্চ বিকেলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে সোমালিয়ার ১৪৫ শরণার্থীকে বহনকারী নৌকাটিতে বিমান হামলা চালায় সৌদি জঙ্গিবিমান।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন ইউএনএইচসিআর প্রাথমিকভাবে ওই হামলায় ৪২ জনের নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল।
এইচআরডাব্লিউ’র মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক সারাহ লেয়া হুইটসন বলেছেন, সোমালিয়ার পলায়নরত শরণার্থীদের ওপর সৌদি বিমান হামলা ইয়েমেনে গত দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের সর্বশেষ নমুনা মাত্র। তিনি আরো বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষার বিষয়টিকে বেপরোয়াভাবে উপেক্ষা করার মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে।
এদিকে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ওই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। যদি প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, যে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দিয়ে নৌকাটিতে হামলা চালানো হয় তা শুধুমাত্র সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করেছে।
১৬ মার্চের ওই হামলার পরদিন হতভাগ্য নৌকাটির বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও নাবিকেরা তাদের নৌকাকে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী হুদাইদায় নোঙ্গর করাতে সক্ষম হয়। এরপরই বিশ্ববাসী সৌদি বর্বরতার নমুনা দেখতে পায়। ইউএনএইচসিআর সে সময় এক বিবৃতিতে জানায়, শরণার্থীদের প্রাণহানিতে তারা হতভম্ব হয়েছেন।
এসব শরণার্থী হুদাইদা থেকে সুদানে যাওয়ার পথে সৌদি বিমান হামলার শিকার হন। এখনো নৌকাটির ১০ শরণার্থী নিখোঁজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮