ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেছেন, রিয়াদ ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানবে না। এর আগে সৌদি নেতৃত্বে সামরিক জোট ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আন্দোলন আনসারুল্লাহকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা আহমাদ আসিরি প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় রিয়াদের বিরোধিতার কথা জানান।
এদিকে, জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক প্রতিনিধি ইসমাইল বালাদ আশ্ শেইখ আহমাদ এর আগে বলেছিলেন, ইয়েমেন সংকট অবসানের জন্য একমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন।
সৌদি আরব এমন সময় যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করল যখন আমেরিকা ও সৌদি জঙ্গিবিমানগুলো ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলীয় মা'আরিব প্রদেশের সারওয়াহ শহরে ব্যাপক বোমা বর্ষণ করেছে। ইয়েমেনের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর থেকে বলা হয়েছে, গত ২০১৫ সালের মার্চ থেকে সৌদি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনের ১২ হাজার ৪১ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং এদের মধ্যে চার হাজার ৪০০ জন রয়েছে নারী ও শিশু।
ইয়েমেনের জনগণ খুব অল্প কিছু অস্ত্র নিয়ে সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং গত দুই বছর ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে সৌদি আরবের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। সৌদি কর্মকর্তারা প্রথমে ভেবেছিলেন মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করতে পারবে। কিন্তু এখন তারা ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা নেই।
আমেরিকা ও ব্রিটেনের সমর্থন নিয়ে সৌদি আরব গত ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে হামলা চালানো শুরু করে। দেশটির পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে ফের ক্ষমতায় বসানোর অজুহাতে তারা এ আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার রক্ষার দাবিদার দেশগুলোও সৌদি গণহত্যার বিষয়ে কোনো কথা বলছে না বরং আমেরিকা ও ইসরাইল অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবকে টিকিয়ে রেখেছে। একদিকে, জাতিসংঘ ইয়েমেনে শিশু হত্যার তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাতিল করেছে অন্যদিকে আমেরিকা সৌদি আরবকে অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়ায় গণহত্যা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে রিয়াদ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন বন্ধ করা, দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং যুদ্ধবিরতির মাধ্যমেই কেবল সেদেশে পুরোপুরি স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কিন্তু সৌদি আগ্রাসন যদি চলতে থাকে তাহলে যুদ্ধবিরতিসহ কোনো বিষয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব নয়। কারণ আগ্রাসন ও সংলাপ একসঙ্গে চলতে পারে না।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৬