ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দিশেহারা সৌদি আরব: চিন্তিত আমেরিকা
রিয়াদ সফরকারী মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিস বলেছেন, যেভাবেই হোক সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে হবে। গতকাল রিয়াদে পৌঁছে তিনি সৌদি আরবে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের উপায় নিয়ে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইয়েমেন যুদ্ধের প্রকৃত অবস্থাকে ঠিক উল্টো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন তিনি। অর্থাৎ ইয়েমেনের জনগণই বরং সৌদি আগ্রাসনের স্বীকার হয়ে আসছে এবং ওই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের জনগণ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আর এটাকেই ঠিক উল্টো করে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ থেকে বোঝা যায়, ইয়েমেনের জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা দিনকে দিন জোরদার হচ্ছে এবং সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলোর হিসাব নিকাশ ওলোট পালট হয়ে গেছে। সৌদি অপরাধযজ্ঞের জবাবে ইয়েমেনের সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী অভ্যন্তরীণ শক্তি সামর্থ্য ও নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের জনগণ কেবল আত্মরক্ষা করছে।
কিন্তু সৌদি আগ্রাসী বাহিনী ইয়েমেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারার কারণে তাদের সমর্থক দেশগুলো গভীরভাবে চিন্তিত। এ কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন প্রকাশ্যেই ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সরাসরি নিজেরাই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে লেলিয়ে দেয়ার পেছনে পাশ্চাত্যের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমেরিকা ভালো করেই জানে ইয়েমেনে সৌদি আরবের ব্যর্থতা মানেই সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়া। এ কারণে তারা এখন নিজেরাই ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যাতে তাদের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা যায়। এ লক্ষ্যে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ইয়েমেনের তিনটি প্রদেশে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে অনেক আরব দেশের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, মার্কিন সর্বাত্মক সহযোগিতা নিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনে অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আমেরিকা, ব্রিটেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের পশ্চিম সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা দখলের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভূকৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আল হাদিদে বন্দর ও বাব আল মান্দাব প্রণালী দখল করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।
এদিকে, ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিও জানিয়েছেন, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা খণ্ড বিখণ্ড করার চেষ্টা চলছে। মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি আরব ইয়েমেনকে উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করার নক্সা এঁটেছে যাতে ওই দেশটিকে দুর্বল করে দেয়া যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ভাবে ইয়েমেনকে দুর্বল ও ছোট ছোট এলাকায় বিভক্ত করতে চাইছে শত্রুরা যাতে তারা সহজেই সমগ্র ওই অঞ্চলের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। অবশ্য বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বহু আগেই পাশ্চাত্যের দেশগুলো এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করার নীলনক্সা এঁটেছে। এ অবস্থায় ইয়েমেনের ব্যাপারে আমেরিকা কী করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৯