সৌদি সালমানের কণ্ঠে সন্ত্রাস-বিরোধিতা: সাম্প্রতিক শ্রেষ্ঠ কৌতুকাভিনয়!
-
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গতকাল (রোববার) সন্ত্রাস-বিরোধী কথিত ইসলামী-সামরিক জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রী-পরিষদের বৈঠক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গতকাল (রোববার) সন্ত্রাস-বিরোধী কথিত ইসলামী-সামরিক জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রী-পরিষদের বৈঠক হয়েছে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত ওয়াহাবি মতবাদের আজন্ম ধারক-বাহক সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকারের মুখে সন্ত্রাস-বিরোধী শ্লোগানকে বিশ্লেষকরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক প্রহসন বা কৌতুকাভিনয় বলেই মনে করছেন।
গতকাল আন্তর্জাতিক ওই বৈঠকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ সালমান বলেছেন: এখন ৪০টিরও বেশি দেশ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াইয়ে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে।
সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াই খুবই ভালো ও জরুরি কাজ তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ কোনো সভ্য সমাজ বা সরকারের নেই। কিন্তু সৌদি সরকার কি এমন লড়াইয়ের পতাকাবাহী বা নেতৃত্বের দাবিদার হতে পারে? সৌদি সরকার যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম প্রধান মদদদাতা ছিল তা এখন কোনো শিশুর কাছেও অজানা নয়।
ইরাক ও সিরিয়ার কর্মকর্তারাসহ এ অঞ্চলের বহু দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে আইএসআইএল বা দায়েশসহ তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দেয়ার ক্ষেত্রে সৌদি ভূমিকার ভুরি ভুরি সাক্ষ্য-প্রমাণ তুলে ধরেছেন নানা সময়ে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ওয়াশিংটন টাইমসের কলামিস্ট ক্যাল থম্যাস লিখেছেন: 'সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে সৌদি সরকারকে বিশ্বাস করাটা হবে কুখ্যাত বর্ণবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কু ক্ল্যাক্স ক্ল্যান-এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার মত ব্যাপার। সৌদি সরকার বহু বছর ধরে যে দানব বা শয়তান গড়ে তুলেছে ও তাকে লালন করেছে এখন সেই শয়তানের মোকাবেলায় যুদ্ধ করাকে তার দায়িত্ব বলে মনে করছে। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য কখনও সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে না।'
সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী বহুজাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর। কিন্তু গত দুই বছরে এই জোট সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ে কোনো ভূমিকাই রাখেনি। অথচ আইএসআইএল বা দায়েশসহ মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখন প্রায় নির্মূলের পথে রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান, সিরিয়া, ইরাক ও লেবাননের হিজবুল্লাহ সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াইয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে এবং তারা ইরাক ও সিরিয়াকে প্রায় পুরোপুরি দায়েশ-মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
এটা স্পষ্ট যে সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাস-বিরোধী ইসলামী জোট আসলে একটি প্রচার-সর্বস্ব জোট যা জনমতের ওপর খুব কমই প্রভাব ফেলতে পেরেছে। কারণ ইরান-কেন্দ্রীক প্রতিরোধ জোট সৌদি নেতৃত্বাধীন এই জোটের সঙ্গে যুক্ত নয়। ফলে অনেকের কাছেই এটা স্পষ্ট যে সৌদির নেতৃত্বে কথিত এই ইসলামী জোট গড়া হয়েছে সন্ত্রাস-বিরোধী প্রকৃত সংগ্রামী জোটকে বাধা দেয়ার অশুভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। এরই মধ্যে এই জোট থেকে বেরিয়ে গেছে কাতার ও লেবানন। আর পাকিস্তানসহ অনেক দেশই সন্ত্রাস-বিরোধী লড়াই বিষয়ে রিয়াদের নীতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নয়।
আসলে সৌদি সরকার এ অঞ্চলে, বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনসহ নানা দেশে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার যেসব ব্যর্থ ষড়যন্ত্র করেছিল সেসবকে ঢেকে রাখতেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জোট গঠনের তৎপরতায় মেতে উঠেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৭