সৌদি হামলায় ইয়েমেনি শিশু হত্যার ব্যাপারে জাতিসংঘের পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i63441-সৌদি_হামলায়_ইয়েমেনি_শিশু_হত্যার_ব্যাপারে_জাতিসংঘের_পক্ষপাতদুষ্ট_প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনের স্কুল বাসে সৌদি পাশবিক বিমান হামলার ব্যাপারে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে মানবাধিকারের ব্যাপারে এই বিশ্ব সংস্থার দ্বৈত চরিত্র আরেকবার প্রকাশ পেয়েছে।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
আগস্ট ১১, ২০১৮ ১৩:২৮ Asia/Dhaka

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনের স্কুল বাসে সৌদি পাশবিক বিমান হামলার ব্যাপারে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে মানবাধিকারের ব্যাপারে এই বিশ্ব সংস্থার দ্বৈত চরিত্র আরেকবার প্রকাশ পেয়েছে।

বৃহস্পতিবারের ওই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ১৩০ জন হতাহত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানায়। এ পরিষদ ইয়েমেনি শিশুদের বহনকারী বাসে সৌদি হামলায় নিছক উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই হামলার তদন্ত চালানোর জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানায়। সেইসঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনে শিশুদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের নিন্দা জানায়।

এই নিন্দা জানানোর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ মূলত ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের ভিত্তিহীন দাবির পুনরাবৃত্তি করল।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড সেটা মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইয়েমেনের সর্বশেষ ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চালানোর জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সৌদি হামলায় আহত ইয়েমেনি শিশু

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, স্কুল শিক্ষার্থীদের গণহারে হত্যা করে সৌদি আরব যে যুদ্ধাপরাধ করেছে সে বিষয়টিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে পাঠাতে পারত। কিন্তু তা না করে এই পরিষদ নিন্দা জানিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে।

দ্বিতীয়ত, ইয়েমেনের স্কুল বাসে হামলার ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এই পরিষদ। এর মাধ্যমে জাতিসংঘ নিজের মানসম্মান ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। কারণ, শিশু হত্যাকারী সৌদি আরবকেই এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।  

নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রতিক্রিয়া মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে জাতিসংঘের দ্বৈত চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।  মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনায় এর আগে জাতিসংঘ এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।

ইয়েমেনের চলমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য দারিদ্রপীড়িত দেশটিতে সৌদি আরবের বর্বরোচিত আগ্রাসন দায়ী হলেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২০১৫ সালে আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করেছিল। আর এখন যখন স্কুল ছাত্রভর্তি বাসে হামলা চালিয়ে সৌদি আরব বহু শিশুকে হত্যা করে নিজের মানবতা বিরোধী চরিত্র সবার সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে তখন নিরাপত্তা পরিষদ এজন্য সৌদি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলাকে দায়ী না করে নিজের দ্বৈত চরিত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকল।#

পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১১