আন্তর্জাতিক চাপ ঠেকাতে মরিয়া সৌদি সরকার: তাতে কী শেষ রক্ষা হবে?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i65330-আন্তর্জাতিক_চাপ_ঠেকাতে_মরিয়া_সৌদি_সরকার_তাতে_কী_শেষ_রক্ষা_হবে
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে গোয়েন্দা বিভাগের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক গতকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ২৬, ২০১৮ ১৩:৩০ Asia/Dhaka

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে গোয়েন্দা বিভাগের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠক গতকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদি সরকার বিরোধী এবং দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠিন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন। যুবরাজ সালমানের সৌদি রাজার পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক চাপ থেকে যুবরাজকে রেহাই দেয়ার জন্য তার পিতা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন।

প্রথমত, সৌদি নিরাপত্তা বিভাগের হাতে দেশটির সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার পর এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন সৌদি রাজা। কিন্তু সৌদি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর তারা হত্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। সৌদি রাজা বিষয়টিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন যাতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘাড়ে কোনো দোষ না থাকে। কিন্তু বিশ্বের কোনো দেশই এমনকি সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও ওই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারেনি। চলতি সপ্তাহে রিয়াদে যুবরাজ সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক সম্মেলন বয়কট করেছে অনেক দেশ ও কোম্পানি এবং জার্মানি সরকার সাংবাদিক হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের যে দাবি জানিয়েছে তাতে বোঝা যায়, খাশোগি নিহত হওয়ার ব্যাপারে সৌদি আরবের ব্যাখ্যা কোনো দেশ বিশ্বাস করেনি।

দ্বিতীয়ত, নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক চাপ থেকে যুবরাজ সালমানকে নিরাপদে রাখার জন্য গুপ্তহত্যার দায় অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে রিয়াদ সরকার। যেকোনো স্বৈরসরকারই তাদের কোনো বড় ধরনের অপরাধের ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে এর দায় অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। সৌদি রাজা সালমানও সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তার পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে রক্ষার জন্য একই কৌশল অবলম্বন করেছেন। সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের উপপ্রধানের পদ থেকে আহমাদ আল আসিরি ও রাজার আইন উপদেষ্টা সৌদ আল কাহতানিসহ আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণের ঘটনাই এর প্রমাণ।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামো সংস্কারের পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির রাজা ও যুবরাজ। গত ২০ অক্টোবর সৌদি রাজা সালমান ওই সংস্কারের নির্দেশ দেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক চাপ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সৌদি রাজা সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এসব পদক্ষেপ বাস্তবতা থেকে পলায়নেরই চেষ্টা। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমাজ বিশেষ করে অধিকাংশ দেশের নেতারা মনে করেন, যুবরাজ সালমানের নির্দেশে সাংবাদিক খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। এ অবস্থায় যতই সৌদি আরবের গোয়েন্দা কাঠামোতে সংস্কার করা হোক না কেন তাতে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৬